[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

জামায়াতের জোটে আসন সমঝোতা এখনো অধরাই

প্রকাশঃ
অ+ অ-
১১ দলীয় জোট

ইসলামপন্থিদের ভোট ‘এক বাক্সে’ আনতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় জোটে এখনো আসন ভাগাভাগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রত্যাশিত আসনে ছাড় না পাওয়া এবং মূলনীতির বিষয়ে একমত না হলে শেষ পর্যন্ত জোট ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু বলেছেন, সমঝোতা না হলে তারা জোটে ‘নাও থাকতে পারেন’। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক জানিয়েছেন, সমাধান না হলে তাদের জন্য ‘বিকল্প ব্যবস্থা’ প্রস্তুত আছে।

তবে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এ বিষয়ে আশাবাদী। তাঁর আশা, ‘দুয়েক দিনের মধ্যে’ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আটটি ধর্মভিত্তিক দল এই জোটের সূচনা করে।

সে সময় এই জোটে ছিল জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামে ইসলাম পার্টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে এলে এই মোর্চাকে নির্বাচনি জোটে রূপ দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার আগের দিন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এলডিপি এবং পরদিন এবি পার্টি এই জোটে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এরপর থেকেই আসন ভাগাভাগি নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে জামায়াতের মতপার্থক্যের খবর সংবাদমাধ্যমে আসতে থাকে। ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামি ২৭৬টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিজেদের দাবিমতো অন্তত দেড়শ আসন না পাওয়ায় চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অসন্তুষ্ট। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাত্র ৩৫টি আসনে নির্বাচন করতে হওয়ায় দলটির নেতা-কর্মীরা নাখোশ।

আসন বণ্টন নিয়ে আরও কয়েকটি দলেও ক্ষোভ রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৫০টি আসন চাইলেও সমঝোতার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী তাদের ১৩টি আসনে ‘রাজি করিয়েছে’ বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে।

একইভাবে খেলাফত মজলিস ২৫টির বেশি আসন দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত পাঁচটি আসন নিয়েই তাদের তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। নেজামে ইসলাম এবং খেলাফত আন্দোলন দুটি করে আসন পেয়েছে। আর বিডিপি ও জাগপা একটি করে আসন নিশ্চিত করতে পেরেছে বলে খবরে বলা হয়েছে।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে আরও বলা হয়েছে, জোটে নতুন যোগ দেওয়া এনসিপি অর্ধশতাধিক আসন চাইলেও ৩০টি আসন নিয়ে তাদের প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু বলেন, ‘সমঝোতা জোটটা এখন পর্যন্ত ১১ দলীয় ফর্মে হয়নি। কেবল বলা হচ্ছে ১১ দল, কিন্তু আমাদের এখনো ১১ দলের কোনো অফিশিয়াল মিটিং হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যে কো-অর্ডিনেশন হয়েছে, তারা এখনো কোনো সলিউশনে পৌঁছাতে পারেনি। আমাদের তিনটি আসনের কথা বলা হয়েছিল। আমরা জানিয়েছিলাম, তিনটি আসনে আমরা সন্তুষ্ট নই, এবং এটা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা ছিল।’

তবে আসনের চেয়ে জোট গঠন নিয়েই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে মঞ্জু বলেন, ‘আমাদের বেশি কনসার্ন হচ্ছে এই জোটের নাম কী হবে, বা এটা আদৌ জোট হবে কি না। আমরা যে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি, তার লক্ষ্য কী, কী কারণে—এগুলোর একটি স্টেটমেন্ট তৈরি করা। এগুলোর কোনোটাই এখনো হয়নি, ভিজিবল হয়নি।’

তিনটির বেশি আসন না পেলে জোটে থাকবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এবি পার্টির এই নেতা বলেন, ‘এনসিপিসহ আমরা মোট ৫০টি আসন চেয়েছিলাম। এর মধ্যে এনসিপি ৩৫টি, আমরা ১৫টি। পরে দেখা গেল, তারা (জামায়াত) এনসিপির সঙ্গে আলাদা আলোচনা করেছেন, আমাদের সঙ্গে আলাদা আলোচনা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসন সমঝোতার মূলনীতি কী, কোন ভিত্তিতে হচ্ছে—সেটা আগে চূড়ান্ত করা দরকার। এরপর আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়া উচিত। যদি ১১ দল হয়, তাহলে সবাইকে একসঙ্গে বসে এটার চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে হবে। এটা এখনো একটি অনগোয়িং প্রসেস। জামায়াত আমাদের এখনো কিছু জানায়নি।’

শেষ পর্যন্ত যদি তিনটি আসনই দেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে এবি পার্টি জোটে থাকবে কি না—এ প্রশ্নে মঞ্জু বলেন, ‘আমরা এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলছি না। আমরা চাই, আলোচনা যেন মূলনীতির আলোকে হয়। সেই পরিস্থিতিতে আমরা সমঝোতা জোটে নাও থাকতে পারি।’ 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখনো যে আসন নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি, তা স্বীকার করে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক বলেন, ‘এখানে কিছু জটিলতা আছে। সেই জটিলতাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। যদি সমাধান হয়, তাহলে ভালো। আর সমাধান না হলে আমাদের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া আছে।’

তিনি বলেন, ‘সেটা পরের বিষয়। আমরা চাই, সমাধানটা হোক। তখন সমাধান হলে সবার অবস্থান জানা যাবে।’

জোট নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে টানাপড়েনের মূল কারণ জানতে চাইলে শাহ ইফতেখার তারিক বলেন, ‘এখানে মূল কথা হলো, কেউ যদি সবকিছু নিজের মতো করে করতে চায়, তাহলে যৌথভাবে কাজ করা যায় না। এটাই আসল বিষয়।’

তবে আসন সমঝোতাসহ সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি আগামীকাল দুপুরের মধ্যেই হয়ে যাবে। আজ রাতে এবং কালকে।’

জোটে টানাপড়েনের বিষয়টি স্বীকার করে মামুনুল হক বলেন, ‘আশা করছি শেষ পর্যন্ত ইনশাল্লাহ সবাই জোটে থাকবে। সব ঠিক হয়ে যাবে।’

মঙ্গলবারের কথা নিশ্চিত করে না বললেও ‘দুয়েক দিনের মধ্যে’ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন আসলে কতটি আসন পাবে, তা আপনারা দুয়েক দিনের মধ্যেই জানতে পারবেন। সবকিছু সমাধান হচ্ছে। আমরা সংবাদ সম্মেলন করে তা জানাব।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন