মাঠে খেলতে আসায় কানে ধরিয়ে উঠবস করালেন সর্বমিত্র চাকমা, নিন্দায় মুখর সামাজিক মাধ্যম
![]() |
| কিশোর ও তরুণদের কানে ধরিয়ে উঠবস করাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদস্য সর্বমিত্র চাকমা | ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে আসায় কয়েকজন কিশোর ও তরুণকে কানে ধরিয়ে উঠবস করিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ সময় ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার ফেসবুকে ভিডিওটি প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোনায় প্রায় ৩০ জন কিশোর–তরুণ সারিতে দাঁড়িয়ে কানে ধরিয়ে উঠবস করছেন। তাদের সামনে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন সর্বমিত্র চাকমা। জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ৬ জানুয়ারি।
ভিডিওটি দেখার পর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইসমাইল নাহিদ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আজকে দেখলাম শিবির প্যানেল থেকে মনোনীত ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমা একদল বাচ্চা ছেলেপেলেকে কানে ধরিয়ে উঠবস করাচ্ছে এবং লাঠি হাতে এদিক–ওদিক তেড়ে যাচ্ছে। ভয়ে বাচ্চারা কানে ধরে উঠবস করছে।’
মাস্টারদা সূর্য সেন হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. আবিদুর রহমান মিশু ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এবার শিবিরের গৃহপালিত ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা প্রক্টরের দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়ে বাচ্চাদের কানে ধরে উঠবস করাচ্ছে। অপরাধ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলা। অথচ বাচ্চারা যদি কোনো ভুল করে, তার বিচার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। এটাই শিবিরের শাসনব্যবস্থার নমুনা। ক্ষমতাকে পুঁজি করেই এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।’
ঘটনার পর সর্বমিত্র চাকমা নিজ অবস্থান তুলে ধরেন ফেসবুকে। তিনি লিখেছেন, গত বছরের ১৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় মাঠে অনুশীলন করতে যাওয়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী সাইকেল হারিয়েছিলেন।
সর্বমিত্র আরও লিখেছেন, ‘এমন ঘটনা অহরহ ঘটে। প্রশাসনের কাছে আবেদন করলে দেয়াল সংস্কারের ফাইল ফিরে আসে এবং বলা হয় বাজেট নেই। এদিকে প্রতিদিন আমাদের শিক্ষার্থীরা মোবাইল, মানিব্যাগ বা সাইকেল হারায়। বারবার মানা করার পরও কেউ দায়িত্ব নেন না এবং দেয়াল টপকিয়ে চলে যায়। প্রশাসনের অসহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের জন্য এর চেয়ে আর কী করা যায়?’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের তো আমার কাছে চাওয়া–পাওয়া আছে। তারা (ক্যাম্পাসের বাইরের লোকজন) যখন প্রতিনিয়ত মাঠে এসে ইটপাটকেল মারে এবং আমাদের বারবার বলার পরও কথা শোনে না, সেই জায়গা থেকে আমাকেও কিছু করতে হয়, তাই না?’
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, 'ওর কাছে আমরা ব্যাখ্যা চেয়েছি। ব্যাখ্যা দিক তারপর।'

Comments
Comments