রূপলাল ও প্রদীপ লাল হত্যা মামলায় জামিনে বেরিয়ে বাদীকে হুমকি, থানায় অভিযোগ
![]() |
| রূপলাল ও প্রদীপ লাল | ছবি: সংগৃহীত |
রংপুরের তারাগঞ্জে আলোচিত রূপলাল ও প্রদীপ লাল হত্যা মামলার এক আসামি জামিনে বের হয়ে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী তারাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৯ আগস্ট রাতে মিঠাপুকুর উপজেলার ছড়ান বালুয়া এলাকা থেকে ভ্যান নিয়ে তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর গ্রামে রূপলালের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন প্রদীপ লাল। পথ ভুলে গেলে তাঁকে আনতে যান রূপলাল। তারা দুজন রাত সাড়ে আটটার দিকে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে পৌঁছালে চোর সন্দেহে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করেন। পরে দফায় দফায় মারধরের এক পর্যায়ে তাদের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরদিন ১০ আগস্ট রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা প্রায় ৭০০ জনকে আসামি করা হয়।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভারতী রানী (৩৬) উল্লেখ করেন, পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। এর মধ্যে মো. রুবেল পাইকার (৩০) জামিন পাওয়ার পর ২২ জানুয়ারি তারাগঞ্জ বাজারে ভারতী রানী ও তাঁর ছেলে জয়কে দেখে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ভারতী রানী মামলা তুলে নিতে অসম্মতি জানালে আসামি তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তুলে নিয়ে গিয়ে প্রাণে হত্যার হুমকি দেন। এ সময় বিভিন্ন ধরনের ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমন অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কথা উল্লেখ করে ভারতী রানী বলেন, ‘ন্যায়বিচারের জন্য মামলা করেছিলাম, এখন আমাকে ও আমার সন্তানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার ছেলে বাইরে দোকান করে সংসার চালায়। কিন্তু এখন আমার ছেলেও খুব ভয়ে দিন কাটাচ্ছে। ওরা খুব হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন খুব অসহায়। নিরুপায় হয়ে প্রাণ বাঁচার ভয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’
নিহত রূপলালের ছেলে জয় রবিদাস বলেন, ‘আমার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে রুবেল পাইকার, সোহাগকে। সোহাগ বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিজে ও লোকজন দিয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু পুলিশ তাকে ধরছে না। রুবেল পাইকার জামিনে এসে হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, আমরা যেন নিরাপদে থাকতে পারি। বাবা হত্যার আসামিদের যেন গ্রেপ্তার করে দ্রুত শাস্তি দেওয়া হয়।’
জানতে চাইলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ বানোয়াট বলে দাবি করেন রুবেল পাইকার। তিনি বলেন, ‘মামলায় আসামি ৭০০ লোক। আমরা দুজন গিয়ে বলব মামলা উঠিয়ে নেন, আমাদের তাতে কী লাভ? এসব সাজানো অভিযোগ। তাঁকে আমি চিনি না, জীবনে তাঁর বাড়িতেও যাইনি।’
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারাগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার এসআই প্রদীপ কুমার বর্মণ।
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মুঠোফোনে বলেন, ‘কোর্টে আছি। রূপলালের স্ত্রী আমাকে ফোন দিয়েছিল। অভিযোগ দিয়েছে কি না, জানি না।’

Comments
Comments