সৎ নেতাকে ভোট দিতে বলায় খতিবের দিকে তেড়ে গেলেন কিছু মুসল্লি
![]() |
| নোয়াখালীর সুবর্ণচরের জনতা বাজার ইসলামিয়া জামে মসজিদে জুমার নামাজের আগে বয়ানের সময় খতিব এইচ এম ফজলুর রহমানকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় | ছবি: ভিডিও থেকে |
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে জুমার নামাজের খুতবা দেওয়ার সময় খতিব এইচ এম ফজলুর রহমানের দিকে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন মুসল্লির বিরুদ্ধে। খতিবের দাবি, চোর-ডাকাত, বাটপার ও খারাপ ব্যক্তিকে প্রতিহত করে সৎ ও যোগ্য নেতাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার কথা বলায় কয়েকজন মুসল্লি তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে চরক্লার্ক ইউনিয়নের জনতা বাজার ইসলামিয়া জামে মসজিদে জুমার নামাজের আগে বয়ান দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। ফজলুর রহমান ওই মসজিদের খতিব।
আজ শনিবার সকালে খতিব ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি কারও পক্ষে বা বিপক্ষে কথা বলিনি। শুধু কোরআনের সুরা নিসার ৮৫ নম্বর আয়াত থেকে তিলাওয়াত করে বলেছিলাম, ভোট একটি আমানত। চোর-ডাকাত, বাটপার বা খারাপ লোককে নির্বাচিত না করে সৎ ও যোগ্য নেতাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুমার নামাজের আগে প্রতিদিন ৩০ মিনিট বয়ান দিই। বয়ানের মাঝেই মসজিদের সভাপতি ওবায়দুল হক আমাকে বাধা দেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক আমাকে গালিগালাজ করে মারতে আসে। বয়ানে আমি কী বলেছি, তা নিজের মোবাইলে ধারণ করেছি। যদি আমি কোনো খারাপ কথা বলে থাকি, তাহলে আমার শাস্তি হোক। আর তা না হলে যারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছে, তাদের বিচার চাই।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মুসল্লি বলেন, ‘খতিবের বয়ানে জামায়াত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে—এমনটা মনে করে বিএনপিপন্থী কিছু মুসল্লি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ করেন। তবে মসজিদের ভেতরে এ ধরনের আচরণ ঠিক হয়নি।’
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কোনো দলের নাম না বলে হুজুর কোরআন-হাদিসের আলোকে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করার কথা বলছিলেন। আরবি একটি আয়াত উল্লেখ করে তিনি ব্যাখ্যা করেন—এমন নেতা নির্বাচন করতে হবে, যাঁরা মানুষের উপকার করবেন এবং কারও ওপর জুলুম করবেন না। যাঁরা নিয়মিত নামাজ পড়েন না, শুধু শুক্রবার নামাজ পড়েন, এমন কিছু যুবক বাইরে থেকে এসে হট্টগোল শুরু করেন।’
মসজিদ কমিটির সভাপতি ওবায়দুল হকের বরাতে হুমায়ুন কবির আরও বলেন, হুজুরের আলোচনা ঠিকভাবে না বুঝে দোকান থেকে এসে কয়েকজন যুবক হট্টগোল শুরু করেন। তাঁরা সভাপতিকে বলেন, ‘আপনার হুজুর জামায়াতের পক্ষে কথা বলছে, আপনি হুজুরকে থামান।’ এরপর সভাপতি হুজুরকে রাজনৈতিক কথা বলতে বারণ করেন। তখন ওই যুবকেরা আরও উত্তেজিত হয়ে হট্টগোল শুরু করেন এবং খতিবকে মারার জন্য তেড়ে যান। পুরো ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মসজিদ কমিটির সভাপতি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

Comments
Comments