কুমিল্লায় বিএনপিতে যোগদান করলেন আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা-কর্মী
![]() |
| কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি মাতৃছায়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপিতে যোগদান করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আজমল সরকার | ছবি: সংগৃহীত |
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাতৃছায়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে স্থানীয় বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সভায় তাঁরা বিএনপিতে যোগ দেন।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাতৃছায়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে স্থানীয় বিএনপির নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই জনসভায় মিছিল নিয়ে উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক বিএনপিতে যোগ দেন।
নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এবং কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়া।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান সরকার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন সরকার, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হাজী আলী হোসেন মোল্লা, সহসভাপতি এমদাদ হোসেন আখন্দ, জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন সরকারসহ আরও অনেকে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমল সরকার বলেন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। সে কারণে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ভালো কাজ করার সুযোগ তিনি তেমনভাবে পাননি। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তাঁর ভোটগুলো ছিনিয়ে নেন।
দল থেকে তিনি মূল্যায়নের বদলে অবমূল্যায়ন পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। এই অবমূল্যায়নের কারণে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি বিরক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই তিনি দল থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তবে পরিবেশ ও পরিস্থিতির কারণে তখন সেই সুযোগ হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও তিনি দল ছাড়তে চেয়েছিলেন, কিন্তু দেশের পরিস্থিতির কারণে তখনও তা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ভোট তো কাউকে না কাউকে দিতে হয়। অনেক চিন্তাভাবনার পর মঙ্গলবার দুপুরে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিকেলে তিনি বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন এবং ধানের শীষের পক্ষে ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে কাজ করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন।
আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মাজহারুল ইসলাম সরকার বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য শুনে এবং তাঁর হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই তাঁরা বুঝেশুনে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভূঁইয়া বলেন, ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে যে কেউ বিএনপিতে যোগ দিতে পারেন। বিএনপির দরজা সব সময় খোলা থাকবে।

Comments
Comments