[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

নির্বাচন করতে নেমেই হুমকি পেতে শুরু করেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’

প্রকাশঃ
অ+ অ-
সালমান ওমর ও সৈয়দ এমরান সালেহ (ডানে) | ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর এক সমর্থককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ ঘটনায় বিএনপির প্রার্থীকে দায়ী করে বিচার দাবি করেছেন মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া সালমান ওমর। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ার পর থেকে তিনি নানাভাবে হুমকি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন উত্তর জেলা বিএনপির এই সদস্য। তবে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গতকাল শুক্রবার ধোবাউড়া উপজেলার ঘোষগাঁও ইউনিয়নের এরশাদ বাজারে সালমান ওমরের একটি নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলাম (৪০) নামের তাঁর এক সমর্থককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গতকাল মধ্যরাতে ধোবাউড়া থানা চত্বরে দেওয়া বক্তব্যে সালমান ওমর বলেন, ‘আমি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই বিএনপির প্রার্থী এমরান সালেহ ও তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছিল, যেন আমি নির্বাচন থেকে সরে যাই। তাঁরা শুধু আমার কর্মী-সমর্থকদের নয়, আমাকে ব্যক্তিগতভাবেও হুমকি দিয়েছে। জনগণের অধিকারের কথা ভেবে আমি এখনো নির্বাচনে আছি।’

সালমান ওমর আরও বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে বারবার আমার নিরাপত্তার ঘাটতি লক্ষ করেছি। আমার নেতা-কর্মীরাও বলছিল, যেকোনো সময় আমার ওপর হামলা হতে পারে, তাই বেশি লোক নিয়ে চলাচল করতে। নজরুল ইসলামকে যে হত্যা করা হয়েছে, সেটি আমি নিজেও হতে পারতাম। এই হত্যাকাণ্ড হঠাৎ ঘটেনি, এটি ছিল তাঁদের পরিকল্পিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, ওই জায়গায় থাকলে আমাকে হত্যা করা হতো। আমার কর্মী নিজের রক্ত দিয়ে আমাকে বাঁচিয়েছে। নজরুল ভাইয়ের পরিবারের সব সদস্যের দায়িত্ব আমি নিয়েছি।’

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ এবং মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সালমান ওমর দীর্ঘদিন ধরে দুই বিপরীত অবস্থানে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে সৈয়দ এমরান সালেহ বলেন, ‘কাউকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। বক্তৃতায় অনেক সময় রূপক অর্থে কথা বলা হয়। সে রকম একটি কথা নিয়ে তারা বলছে, আমরা নাকি তাদের এলাকায় থাকতে দেব না। যদি সত্যিই তা হতো, তাহলে তারা এলাকায় থাকতেই পারত না। তারা দলের সঙ্গে বেইমানি ও প্রতারণা করেছে।’

বিএনপির প্রার্থী আরও বলেন, ‘তারা যখন দেখেছে, ৮০ শতাংশ রাজনৈতিক মানুষ আমার পক্ষে চলে এসেছে, তখনই তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আসলে তারাই হুমকি দিচ্ছে। গন্ডগোল লাগানোর জন্য নানা ধরনের ফাঁদ পাতা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত, পুলিশ যেন তাদের গ্রেপ্তার করে। কিন্তু ঘটনার আবেগকে কাজে লাগিয়ে আমার সিনিয়র নেতা-কর্মী ও আমার নাম নিয়ে যেভাবে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, আমার নেতা-কর্মীরা মাঠে নামলে পরিস্থিতি কী হবে? আমি সবাইকে শান্ত রেখেছি।’

প্রার্থীকে হুমকির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা দেখতে ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে কাজ করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী লিখিত অভিযোগ না দিলেও বিএনপির প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি নজরে আসায় ছয়টি শোকজ দেওয়া হয়েছে। তবে সবগুলোর জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। প্রার্থীকে মৌখিকভাবেও সতর্ক করা হয়েছে। সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে যা প্রয়োজন, তাঁরা সেটিই করছেন। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন