[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

মুন্সিগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ঘটেছে ককটেল বিস্ফোরণ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
টঙ্গিবাড়ীতে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা। আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার কামারখাড়া বাজারে | ছবি: সংগৃহীত

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় স্লোগান দেওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং দেশি অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ একে অপরকে ধাওয়া করে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের দিঘীরপাড় বাজারে এবং বেলা একটার দিকে কামারখাড়া ইউনিয়নের কামারখাড়া বাজারে এসব ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। তাঁরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন।

সংঘর্ষে জড়ানো এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শামীম মোল্লা। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন কামারখাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার ব্যাপারী। তাঁরা দুজনই মুন্সিগঞ্জ–২ (টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজং) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দিঘীরপাড় বাজার থেকে ধানের শীষের একটি মিছিল নিয়ে কামারখাড়া এলাকায় যান বিএনপির নেতা শামীম মোল্লার সমর্থকেরা। এ সময় তাঁরা ধানের শীষ প্রতীকের পাশাপাশি শামীম মোল্লার নামেও স্লোগান দেন। এতে মনোয়ার ব্যাপারী ও তাঁর সমর্থকেরা বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে দুই পক্ষ যে যার মতো সরে যায়।

প্রথম দফার সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বেলা একটার দিকে আবার দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হতে থাকেন। উত্তেজনার মধ্যে মনোয়ার ব্যাপারীর সমর্থনে স্থানীয় খান বংশের লোকজন যোগ দেন। এরপর দিঘীরপাড় বাজারে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষ দেশি অস্ত্র নিয়ে একে অপরকে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া করে। সংঘর্ষের কারণে বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এতে উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে দিঘীরপাড় ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ বিষয়ে বিএনপির নেতা শামীম মোল্লা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দল করতে গিয়ে হামলা ও মামলার শিকার হয়েছি। যারা একসময় আওয়ামী লীগ করত, তারা এখন বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করছে। প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ককটেল ফাটিয়েছে। পিটিয়ে নজরুল মোল্লাসহ আমাদের কয়েকজনকে আহত করেছে।’

মনোয়ার ব্যাপারীর পক্ষের আহত ফেরদৌস খান বলেন, ‘আমাদের মিছিলে শুধু আবদুস সালামের নামে স্লোগান দিতে বলা হয়। তবে শামীম মোল্লার ঘনিষ্ঠ নজরুল মোল্লা শামীম মোল্লার পক্ষেও স্লোগান দেন এবং আমাদেরও দিতে বলেন। আমরা বাধা দিলে শামীম ও নজরুল মোল্লার লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালান।’

টঙ্গিবাড়ী থানার ওসি মনিরুল হক ডাবলু বলেন, দিঘীরপাড় বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন