রাজশাহীতে বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
![]() |
| তীব্র শীতের মধ্যে ঘরের বের হয়েছেন অনেকে। আজ মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজশাহী নগরের চৌদ্দপাই এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
সকাল ৯টা হলেও যেন ভোর শেষ হয়নি। রাজশাহী শহর কুয়াশায় ঢেকে গেছে। হিমেল বাতাসে বাইরে লোকজন কম। তবু চৌদ্দপাই এলাকায় সকাল থেকেই একদল শ্রমিক কাজ করছেন। কেউ কোদাল দিয়ে জমাট হয়ে যাওয়া মাটি কুপিয়ে ঢালিতে ভরছেন, কেউ তা কাঁধে তুলে দূরে ফেলে দিচ্ছেন।
কাজের ফাঁকে একজন শ্রমিক বলেন, ‘এত শীত যে হাত একেবারে অবশ হয়ে আসে। ঢালির সঙ্গে আঙুলের ঘষা লাগলে তহনই বোঝা যায়, হাত এখনো আছে।’ কথা শেষ হতেই আবার তিনি ঢালি টানতে লাগলেন।
কয়েকজন শ্রমিক দেয়াল তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আজকের কাজ যেন শুধু মাটি খোঁড়ার নয়, শীতের সঙ্গে লড়াইয়েরও। মঙ্গলবার রাজশাহীতে বছরের সবচেয়ে শীতল দিন। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলে আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটি দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম।
তীব্র শীত সরাসরি পড়েছে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে। তালাইমারী মোড়ে ভোরের আলো ফোটার আগে থেকেই জড়ো হয়েছেন শতাধিক দিনমজুর। কেউ পাশের গ্রাম থেকে এসেছেন, কেউ দূরের উপজেলা থেকে। কাজের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেন। কিন্তু শীত যত বাড়ছে, কাজ তত কমছে। দেড় শতাধিক শ্রমিকের ভিড় থাকলেও কাজ পেয়েছেন হাতে গোনা কয়েকজন। সকাল ৯টা পেরোতেই অনেকে কাজ না পেয়ে নীরবে বাড়ির পথে ফিরে যান।
চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের টাঙ্গন এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ আলী বলেন, ‘শীত পড়লেই আমাদের কপাল পোড়ে। যারা কাজ দেয়, তারা মনে করে শীতে আমরা ঠিকমতো কাজ করতে পারব না। তবে পেট তো শীত বোঝে না।’
সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রাজশাহীতে সূর্য দেখা মেলেনি। সোমবারও পুরো দিন রোদ দেখা যায়নি। সকাল পৌনে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শহরের রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা। যারা প্রয়োজনের তাগিদে বাইরে বের হয়েছেন, তারা মোটা জামা, সোয়েটার ও জ্যাকেট পরেছেন। কেউ চাদর দিয়ে পুরো শরীর এবং মুখমণ্ডলও ঢেকে রেখেছেন। সকাল ১০টা পর্যন্ত শহরের বেশিরভাগ দোকানপাটও খোলা হয়নি।
কাজলা এলাকায় ব্যাংকার মো. হারুন জানান, শীতকালে সকালবেলা অটোরিকশা পাওয়া কঠিন। শীত সবারই লাগে, গরিব-ধনী মিলিয়ে। তাই ভাড়া একটু বেশি হয়। অফিসে যাওয়ার জন্য সবাই একসাথে বের হন।
রিকশাচালক তৈয়ব আলী বলেন, শীতে হাত কাঁপে। গায়ে যত পোশাক পরেও ভেতর থেকে ঠান্ডা লাগে। তাই অনেকে সকালবেলা বাড়িতেই থাকে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, চলতি শীতে শহরে প্রথম দফার শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছিল ৩১ ডিসেম্বর থেকে। এরপর চার দিন শৈত্যপ্রবাহ চলেছে। গত শুক্রবার মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরে রোববার তাপমাত্রা বেড়ে ১২ ডিগ্রি হয়। কিন্তু সোমবার আবার ১০ ডিগ্রিতে নেমে আসে। আর আজ এক ধাপে ৩ ডিগ্রি কমে নেমে গেছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
আবহাওয়াবিদদের অনুযায়ী, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি, ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪ ডিগ্রির নিচে গেলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। তাই আজ রাজশাহীতে চলছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যে আজ রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। এই শৈত্যপ্রবাহ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

Comments
Comments