ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অটোরিকশা চালকদের বিক্ষোভ
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকরা। আজ রোববার সকাল নয়টা থেকে মহাসড়কের পুরান বাজার এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে তারা নিজেদের দাবি জানান।
বিক্ষোভের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এতে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। সকাল ১০টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, সকাল নয়টার দিকে দুই শতাধিক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেন। তাদের দাবি, জীবিকার তাগিদে মহাসড়কে অটোরিকশা চালাতে দেওয়া হোক। এ সময় চালকেরা অভিযোগ করেন, পুলিশ এক অটোরিকশাচালককে মারধর করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ এবং মহাসড়কে চলাচলের দাবিতে তারা সড়কে বিক্ষোভ দেখান।
সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে প্রথমে তারা অস্বীকৃতি জানান। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন একত্র হয়ে জনভোগান্তির বিষয়টি বোঝালে চালকরা সড়ক থেকে সরে যান। সকাল সোয়া ১০টার দিকে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
অটোরিকশাচালক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, অটোরিকশা চালিয়েই সংসার চলে। কিন্তু মহাসড়কে উঠলেই পুলিশ মোটা অঙ্কের জরিমানা করে। এছাড়া পুলিশ একজন চালককে মারধরও করেছে।’ অন্য চালক শরিফ হোসেন বলেন, কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা সড়কে নেমেছিলেন। তারা মহাসড়কে অটোরিকশা চালানোর সুযোগ চান।
স্থানীয়রা জানান, অটোরিকশার কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সরকারিভাবে মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকলেও চালকরা বিভিন্নভাবে ‘ম্যানেজ’ করে চালাচ্ছেন, ফলে বিপদ বেড়েছে। তাদের অন্তত মহাসড়কে রিকশা চালানোর অনুমতি দেওয়া ঠিক হবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলম বলেন, ‘এই মহাসড়ক দিয়ে কয়েক জেলার গাড়ি চলে। এক ঘণ্টা রাস্তা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের যে ভোগান্তি হয়েছে, তা বোঝানো কঠিন। এভাবে জনভোগান্তি তৈরি করে দাবি আদায় করা ঠিক নয়।’
চালককে মারধর করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘কোনো চালককে মারধর করা হয়নি। ওই চালক পুলিশ দেখে দ্রুত অটোরিকশা ঘুরিয়ে পালানোর সময় সেটি উল্টে গেছে। চালক নিজেই আমাদের কাছে এটি স্বীকার করেছেন।’
মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের বিষয়ে ওসি বলেন, ‘মহাসড়কে অটোরিকশা চালানো নিরাপদ নয় এবং বর্তমানে এটি সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। সরকার অনুমতি দিলে আমরা আপত্তি করব না। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকাকালে আমরা কঠোর থাকব।’

Comments
Comments