নারায়ণগঞ্জে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, প্রশাসনের আশ্বাসে বন্ধ
![]() |
| নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বকেয়া বেতনের দাবিতে একটি সোয়েটার কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
নারায়ণগঞ্জে বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একটি কারখানার শ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা পৌনে ২টা পর্যন্ত সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।
সকালে মৌচাক এলাকার কোরেশ বাংলাদেশ লিমিটেড সোয়েটার কারখানার শ্রমিকেরা বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন। বিজিএমইএ–ভুক্ত সোয়েটার ক্যাটাগরির এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০ শ্রমিক কর্মরত আছেন।
পুলিশ, শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একপর্যায়ে বেলা একটার দিকে কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের আশ্বাসের পর বেলা পৌনে দুইটার দিকে শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আদমজীতে অবস্থিত শিল্প পুলিশ-৪–এর পরিদর্শক (গোয়েন্দা) মো. সেলিম বাদশা বলেন, গত নভেম্বর মাসেও বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে পুলিশ গিয়ে দ্রুত বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলে বেলা দুইটার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অন্যদিকে নগরের টানবাজার এস এম মালেহ রোড এলাকায় রাসেল গার্মেন্টস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলে শ্রমিকেরা সকালেই কারখানার সামনে অবস্থান নেন ও বিক্ষোভ করেন।
শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিনের মতো আজ সকাল আটটার দিকে কারখানায় গিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের নোটিশ সাঁটানো ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে শ্রমিকেরা কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভের এক পর্যায়ে শ্রমিকেরা কারখানার সামনের আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নিলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি—অশোভন আচরণের অভিযোগে কারখানার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) গোলাম মোস্তফার অপসারণ, শ্রম আইন অনুযায়ী ছুটি প্রদান, অনিয়মতান্ত্রিক শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধসহ ১৯ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।
সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল হালিম জানান, শ্রমিকেরা জিএম অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে, তবে বিকেল পর্যন্ত সমাধান হয়নি।

Comments
Comments