[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সহিংসতা না করে শান্ত থাকার আহ্বান জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের

প্রকাশঃ
অ+ অ-
জাতিসংঘ | ফাইল ছবি

বাংলাদেশে গত বছরের বিক্ষোভের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার ঘটনায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিন্দা জানিয়ে হত্যার দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং সব পক্ষকে শান্ত থাকারও অনুরোধ করেছেন।

নিউইয়র্কের সময় শুক্রবার জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছে, গুতেরেস আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটি ‘দ্রুত, নিরপেক্ষ, পুঙ্খানুপুঙ্খ ও স্বচ্ছ তদন্ত’ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবাইকে সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ করেছেন, যেহেতু বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্কও হত্যাকাণ্ডকে গভীরভাবে মর্মাহতকারী বলেছেন। জেনেভা থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা কেবল বিভাজন বাড়াবে এবং সবার অধিকার ক্ষুণ্ন করবে।’

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগরীর একটি মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় ওসমান হাদিকে মুখোশধারী হামলাকারীরা গুলি করে। চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, সেখানে তিনি মারা যান।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীর রাস্তায় হাজারো বিক্ষোভকারী নামে, কিছু ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংবাদপত্রের অফিসসহ বেশ কিছু স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয় এবং সাংবাদিকরাও লাঞ্ছিত হয়েছেন।

গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পটভূমিতে এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। পরে আন্দোলন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং বিক্ষোভ দমনের বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী রূপ নেয়। আগস্টে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যান। জাতিসংঘের তদন্তে দেখা গেছে, জুলাই ও আগস্টের বিক্ষোভে শিশুসহ প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়েছেন, হাজার হাজার আহত হয়েছেন।

ওসমান হাদি ওই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করেছিলেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক জোর দিয়ে বলেছেন, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যেখানে সবাই নিরাপদে নাগরিক জীবনে অংশ নিতে পারেন এবং অবাধে মত প্রকাশ করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি এই সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে অস্থিরতা আরও না ছড়িয়ে পড়ে।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন