[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় রাজশাহী, কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে কাঁপছে নগরী

প্রকাশঃ
অ+ অ-
কনকনে ঠান্ডায় আগুন পোহাচ্ছিলেন কয়েকজন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে রাজশাহী নগরের ঘোড়ামারা এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ঘড়িতে সকাল আটটা। কুয়াশার চাদরে ঢাকা রাস্তাঘাটে লোকজন প্রায় নেই বললেই চলে। দেখে মনে হয়, যেন সকালই হয়নি। কনকনে ঠান্ডায় রাজশাহী নগরের স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য থমকে গেছে। কুয়াশা আর হিমেল বাতাসের দাপটে খুব কম মানুষই বাসার বাইরে বের হয়েছেন। তবে শ্রমজীবী মানুষের কিছুটা আনাগোনা চোখে পড়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় রাজশাহীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ওই সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।

সকাল সাড়ে আটটার দিকে নগরের ঘোড়ামারা এলাকায় গলির মোড়ে একটি মাংসের দোকানের সামনে আগুন পোহাচ্ছিলেন এক কসাই। বোয়ালিয়া থানার সামনে সাধারণত সকাল থেকে দিবাগত রাত ১২টার পরও মানুষের ভিড় থাকে। কিন্তু সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে সেখানে দেখা যায়, এক নারী শিশুকে কোলে নিয়ে দোকানের পাশে বসে আছেন। আশপাশে তখন আর কেউ ছিলেন না।

নগরের কুমারপাড়া মোড় শহরের আরেকটি ব্যস্ত এলাকা। সেখানে একই ভবনে কয়েকটি অভিজাত পোশাকের দোকান রয়েছে। সাধারণত সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে যানবাহনের চাপ থাকে। তবে ওই সময় সেখানে কোনো গাড়ি চোখে পড়েনি। পাশেই লাবণী নামের এক নারীর ডাবের দোকান। সকাল থেকে রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত লাবণী বা তাঁর প্রতিবন্ধী স্বামী সেখানে ডাব বিক্রি করেন। কিন্তু সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে দোকানটি পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় দেখা গেছে।

নগরীর ব্যস্ততম মোড় কুমারপাড়ায় সকাল নয়টা ২৭ মিনিটে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

আলুপট্টি থেকে সাহেব বাজারমুখী রাস্তায় সাধারণত অটোরিকশার ভিড় শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু তখন পর্যন্ত সেখানে কোনো যাত্রীবাহী রিকশা দেখা যায়নি। শুধু দোকানের মালপত্র বহন করা দু-একটি রিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। কুমারপাড়ার মোড়ে আওয়ামী লীগের গুঁড়িয়ে দেওয়া দলীয় কার্যালয়ের পাশে এক যুবক পুরোনো গরম কাপড়ের দোকান সাজানোর চেষ্টা করছিলেন। কার্যালয়ের সামনের গলিটি ছিল একেবারেই ফাঁকা। দোকানপাট বন্ধ, রাস্তাও প্রায় শুনশান।

এর একটু পশ্চিম পাশে চাঁপাই হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। সেখানে সাধারণত সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের ভিড় লেগে থাকে। কিন্তু সকাল প্রায় সাড়ে ৯টায়ও দোকানের চুলাগুলোয় আগুন জ্বালানো হয়নি। কোনো কারিগরও তখন চুলার পাশে ছিলেন না। শুধু দোকানটি খোলা ছিল। সেখান থেকে সাহেব বাজারমুখী রাস্তাটি তখন একেবারেই অচেনা লাগছিল। মাত্র একটি রিকশা যেতে দেখা যায়। পাশে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেখান থেকেই ঘন কুয়াশায় মোড়ানো সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট চোখে পড়ছিল।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

জিরো পয়েন্টে কয়েকটি রিকশা এসে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীর অপেক্ষায় বসে থেকে শীতে কাঁপছেন চালকেরা, কিন্তু কোনো যাত্রী নেই। তবে ফুলের দোকানগুলো খোলা হয়েছে। রাস্তার দক্ষিণ পাশে একটি ফুলের দোকানে এক দোকানি তাঁর কর্মচারীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন। তিনি বলেন, ‘সকালে একবার উঠেছিলাম, তখন কুয়াশার সঙ্গে বাতাস ছিল। মনে হলো, জান বেরিয়ে গেল। আবার শুয়ে পড়েছি।’

ঘড়িতে তখন সময় ৯টা ৩১ মিনিট। জিরো পয়েন্টের পাশে বাবুর্চি বিরিয়ানির দোকানে এক বালক লাল কাপড় দিয়ে রান্নার হাঁড়ি মুছতে মুছতে উদাস দৃষ্টিতে রাস্তার দিকে তাকিয়ে ছিল।

এর মধ্যেই সাহেব বাজারের কাঁচাবাজারের সামনে রুনু নামের এক ডাব বিক্রেতা কয়েকটি ডাব নিয়ে বসেছেন। তবে আজ বৃহস্পতিবার—এই কথা ভিক্ষুকেরা ভুলে যাননি। রাজশাহীতে এদিন ভিক্ষুকেরা দল বেঁধে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে সাহায্যের জন্য যান। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অন্ধ স্বামীকে নিয়ে তাঁর স্ত্রী ভোর সকালেই বাসায় বাসায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন