[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

চট্টগ্রামে বিশিষ্টজনদের উদ্বেগ, দেশেও সংস্কৃতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকটে

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বিবৃতি | প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামে ‘গানে গানে সংহতি সমাবেশ’ আয়োজনের অনুমতি না দেয়ায় নগরের শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও নাট্যকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বিবৃতিতে বলেন, দেশে সংস্কৃতিচর্চা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিবৃতিতে সই করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, অধ্যক্ষ রীতা দত্ত, নাট্যজন শিশির দত্ত, কবি ও সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, ওমর কায়সার, কামরুল হাসান বাদল, অধ্যাপক জাহেদ আলী চৌধুরী, অধ্যাপক আদনান মান্নান, অধ্যাপক ও নাট্যজন অসীম দাশ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের অধ্যাপক তৌফিক সাঈদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মৌরি দে, রবীন্দ্র ও নজরুলসংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তিশিল্পী এবং নাট্যকর্মীরা।

শনিবার রাত সাড়ে আটটায় পাঠানো বিবৃতিতে তারা বলেন, পুলিশ ও প্রশাসন তথা সরকারের দায়িত্ব সাংস্কৃতিক পরিসর রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নেওয়া। দেশে সংস্কৃতিচর্চা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা গভীর উদ্বেগজনক।

এর আগে শনিবার বেলা সাড়ে তিনটায় চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘গানে গানে সংহতি-সমাবেশ’ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় আয়োজকেরা অনুষ্ঠান থেকে সরে আসতে বাধ্য হন।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউলশিল্পী, ছায়ানট, উদীচীসহ সাংস্কৃতিক সংগঠন, সংবাদপত্র অফিস, সাংবাদিক ও শিল্পীদের ওপর একের পর এক হামলার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। ঢাকায় অনুরূপ কর্মসূচির পর ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামে শুধু গান গেয়ে সংহতি জানানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার শুধু গান গেয়ে সংহতি জানানোর আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন পূর্বানুমতির অজুহাত দিয়ে এবং গতকাল ফরিদপুর জিলা স্কুলে সংগীত অনুষ্ঠানের ঘটনা দেখিয়ে নিরাপত্তার কথা বলে আয়োজনকে নিরুৎসাহিত করে। রাস্তার পরিবর্তে শিল্পকলার মাঠে অনুষ্ঠান করতে চাইলেও পুলিশ নিরাপত্তার বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখায়। ফলে সব প্রস্তুতির পরও ‘গানে গানে সংহতি সমাবেশ’ করা সম্ভব হয়নি। এতে প্রতীয়মান হয়, প্রতিবাদ জানানোর পরিবেশও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে, যা দুঃখজনক ও আশঙ্কাজনক।

এর আগে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ‘বিজয় শোভাযাত্রা’ আয়োজনের উদ্যোগ নেন সচেতন নাগরিক সমাজ চট্টগ্রাম। সেবারও পুলিশের অনুমতি না মেলায় কর্মসূচিটি বাতিল হয়।

বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকেরা বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকার আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো সেই অধিকার রক্ষা করা। অথচ আগে থেকে তথ্য থাকা সত্ত্বেও রাজধানীতে সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যমে হামলা ঠেকাতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যমে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। সংস্কৃতিচর্চা ও মতপ্রকাশের পথে যদি কোনো বাধা বা নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকে, তা দূর করাই পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্ব। অন্যথায় স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা বাধাগ্রস্ত হয়ে উগ্রবাদী শক্তির উত্থানকে উৎসাহিত করবে।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আজাদ জানিয়ে বলেন, ফরিদপুরসহ নানা ঘটনা মাথায় রেখে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। আয়োজকেরা আগে অনুমতি নেননি। অনুমতি নিলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া যেত।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন