[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

নিভৃত গ্রামে ঝলমলে সন্ধ্যা, মঞ্চনাটক ‘ধ্বজো মেস্তরীর মরণ’ প্রদর্শিত হলো

প্রকাশঃ
অ+ অ-
‘ধ্বজো মেস্তরীর মরণ’ নাটকের অংশ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের মণিপুরি থিয়েটারের নটমণ্ডপে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

মৌলভীবাজারের ঘোড়ামারায় বিকেল পেরিয়ে ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নামছে। নিভৃত গ্রামটিতে এই হেমন্তের সন্ধ্যা হয়তো খুব শান্ত, ধীর ও নিরিবিলি। জীবনানন্দ দাশের কবিতার মতো—‘সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে;...পৃথিবীর সব রং নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন/ তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল’। গত শনিবার বিকেল ও সন্ধ্যাটা কিন্তু গ্রামটিকে এক অন্যরকম রঙে ঝিলমিল করে তুলেছিল—‘ধ্বজো মেস্তরীর মরণ’ মঞ্চনাটককে ঘিরে।

ঘোড়ামারা কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম। মণিপুরি থিয়েটারের নটমণ্ডপে শনিবার ‘ধ্বজো মেস্তরীর মরণ’ নাটকের শেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হওয়া শীতকালীন প্রদর্শনী তিন দিনে মোট পাঁচটি প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়, যা গ্রামের মানুষ এবং দূরদূরান্তের দর্শকরাও টিকিট কেটে দেখেছেন।

বিকেল গড়িয়ে গেলে নটমণ্ডপের আশপাশে দর্শকের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। গ্রামের নারী-পুরুষ-শিশুরা দলবেঁধে, কেউ সপরিবার, কেউ একা এসে নাটক দেখেন। অনেকেই অন্য গ্রাম বা শহর থেকে এসেছেন। অস্থায়ী খড়ের ছাউনি দেওয়া কাউন্টারে টিকিট কেটে নিচ্ছেন অনেকে, কেউ নটমণ্ডপের সামনে ঘোরাফেরা করছেন। প্রদর্শনী উপলক্ষে অস্থায়ী চা, পেঁয়াজু, ফুলকপি ও আলু ভাজার দোকানও বসে, লোকে লাইন ধরে কিনছেন ও খাচ্ছেন।

লোকগবেষক আহমদ সিরাজ, রেডিও পল্লীকণ্ঠের স্টেশন ম্যানেজার মেহেদি হাসান এবং বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা হাসান তারেকও নাটক দেখতে আসেন। এছাড়া নাটকের গল্পের নাট্যরূপ ও নির্দেশনা করেছেন কবি ও নাট্যকার শুভাশিস সিনহা।

শেষ দিনের প্রথম প্রদর্শনী শুরু হয়। দর্শকরা সারি বেঁধে প্রবেশ করেন এবং সুশৃঙ্খলভাবে আসনে বসে পড়েন। মঞ্চে আলো ফুটে ওঠে, শুরু হয় ধ্বজো মেস্তরীর বয়ান। দর্শকরা তার জীবন, অতীত, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে বর্তমানের দ্বন্দ্বের মিশ্রণকে পর্যবেক্ষণ করেন। এক ঘরে ঘরে ধ্বজো মেস্তরীর জীবনের গল্প তাদের স্মৃতিকাতর ও ভাবপূর্ণ করে তোলে।

নাটকটি খুব সাধারণ মঞ্চে কেবল কাপড় ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে। দর্শকরা নিঃশব্দে মুগ্ধ হয়ে নাটক দেখেছেন। নাটকটি বাংলা ও বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি ভাষার মিশ্রণে তৈরি। জ্যোতি সিনহা কথকের ভূমিকায় ধ্বজো মেস্তরীর জীবন তুলে ধরেন, পার্শ্বচরিত্রে ছিলেন সমরজিৎ সিংহ, বিধান সিংহ, স্বর্ণালী সিনহা, শিউলী সিনহা, সুবর্ণা সিনহা, রাজকান্ত সিংহ, দীপ্রাংশু সিংহ, রোহিত সিংহ, সীমান্ত সিংহ, অনন্যা সিনহা ও স্বর্ণালী শর্মা। সংগীতে ছিলেন শর্মিলা সিনহা, বাদ্যে রনি সিংহ ও অঞ্জনা সিনহা, আলোক পরিকল্পনায় আসলাম অরণ্য।

নাট্যকর্মী হাসান তারেক নাটকটি দেখার পর বলেন, ‘নতুন ও পুরোনোর মধ্যে যে চিরকালীন দ্বন্দ্ব, ঘরকে কেন্দ্র করে সেই দ্বন্দ্বটা নাটকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একজন নাট্যকর্মী হিসেবে নাটকটি দেখার খিদে পূরণ হলো, খুব ভালো লেগেছে।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন