[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

দীপু চন্দ্র দাসের হত্যার বিচার দাবিতে ময়মনসিংহে সমাবেশ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে সমাবেশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহ নগরের গাঙ্গীনারপাড় মোড়ের শহীদ ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্বরে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সারা দেশে ‘মব সহিংসতা’ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় নগরের গাঙ্গীনারপাড় মোড়ের শহীদ ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্বরে এই কর্মসূচি পালিত হয়। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ময়মনিসংহ জেলা শাখা বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য ও শ্রমিক নেতা আবদুর রাজ্জাক বলেন, দীপু চন্দ্র দাসকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার পর উল্লাস করে আগুন দেওয়া হয়েছে, সেই উগ্রবাদ দমন করতে হবে। এভাবে কোনো রাষ্ট্র চলতে পারে না। তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী বিগত সরকার পতনের পর থেকেই ‘মব সন্ত্রাস’ চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু রাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। দীপু দাস হত্যাসহ দেশজুড়ে চলমান মব সন্ত্রাসের দায় নিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন।

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘এ দেশে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাই। বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে কে, কখন, কীভাবে হত্যার শিকার হবে, তা বলা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই মব সন্ত্রাস চলছে। এই অবস্থায় প্রশাসন ও সরকারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যখন মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। এতে বিশ্বের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, দীপুকে হত্যার পর যেভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে, তার দায় কারখানা কর্তৃপক্ষের। কারণ, তারা সমস্যার সমাধান না করে উন্মত্ত জনতার হাতে দীপুকে তুলে দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া হিংস্র ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘একজন মানুষকে হত্যা করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া কি কোনো সভ্য দেশের চিত্র? ইসলাম তো কখনো এমন শিক্ষা দেয়নি।’

সমাবেশে কমিটির সদস্য তারিকুল ফেরদৌস বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর যে বাংলাদেশের কল্পনা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা হয়নি। দীপু দাসের মতো একজন শ্রমিককে মব তৈরি করে হত্যা করা হয়েছে। অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা ছায়ানট, উদীচীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়েছে। মব জাস্টিসের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব অপতৎপরতা রুখে দিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই ধর্মকে ব্যবহার করে কেউ যেন হিংসাত্মক ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।’

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক কাজী ফরিদের সভাপতিত্বে ও গৌতম করের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির সদস্য আবু বক্কর সিদ্দীক, কবি সরকার আজিজ, আরিফুল হাসান, জায়েদ হাসান ওয়ালিদ, জেনাস ভৌমিক প্রমুখ।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন