[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

একসঙ্গে পাঁচ সন্তান, লালন-পালনের দুশ্চিন্তায় বাবা-মা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
পাঁচ সন্তানকে লালন-পালন করছেন মা লামিয়া আক্তার। শনিবার দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চাঁদকাঠী গ্রামে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

এক মাস আগে ২২ বছর বয়সী লামিয়া আক্তার একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এই ঘটনা তাঁর পরিবারে আনন্দ বয়ে এনেছে, তবে এখন সন্তানদের লালন–পালনের খরচ নিয়ে মা–বাবা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চাঁদকাঠী গ্রামের লামিয়ার বাড়ি। তাঁর স্বামী মো. সোহেল হাওলাদার একই উপজেলার সিংহেরাকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। লামিয়ার বাবা ফারুক হাওলাদার ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, আর সোহেল স্থানীয় বাজারে ছোট মুদি ব্যবসা করেন। দুই পরিবারই দরিদ্র, এবং তাদের কোনো জমিজমা নেই।

২০২০ সালে পারিবারিকভাবে লামিয়ার বিয়ে হয়। চার বছর পর গত জুনে তিনি জানতে পারেন, তাঁর গর্ভে একসঙ্গে তিনটি সন্তান আছে। গর্ভধারণের সময় লামিয়া ও পরিবারে উদ্বেগ ছিল। তবে চলতি বছরের ৬ অক্টোবর বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ছাড়াই পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন তিনি। নবজাতকদের মধ্যে তিনটি ছেলে ও দুটি মেয়ে। তাদের নাম রাখা হয়েছে মো. হাসান, মো. হোসাইন, মো. মোয়াজ্জিন, মোসা. লামিবা ও মোসা. উমামা।

পাঁচ সন্তানের জন্মের পর লামিয়া এখন বাবার বাড়িতে আছেন। নবজাতকদের পরিচর্যা করছেন তাঁর মা শাহনাজ বেগম (৪০)। মায়ের দুধে পাঁচ শিশুর চাহিদা পূরণ হচ্ছে না, তাই প্যাকেটজাত দুধ ও অন্যান্য খরচ জোগাতে পরিবারটি হিমশিম খাচ্ছে।

শাহনাজ বেগম বলেন, 'পাঁচটি শিশুই সুস্থ আছে। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, তাদের খরচ বাড়ছে। দুই দিনে ১ হাজার ৭০০ টাকার দুধ কিনতে হয়। এত খরচ আমাদের পক্ষে বহন করা খুবই কষ্টকর।' তিন বছর আগে ফারুক হাওলাদারের মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার হয়েছে। ধার নিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়েছে, এখনো বিশ্রামে থাকার কথা থাকলেও অভাবের কারণে ইটভাটায় কাজে যেতে হচ্ছে।

শিশুদের বাবা সোহেল হাওলাদার বলেন, 'আমাদের সামান্য আয় দিয়ে পাঁচ সন্তানের খরচ চালানো সম্ভব নয়। সন্তানদের সুস্থভাবে বড় করতে সবার সহায়তা চাই।' 

এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দরিদ্র এই দুই পরিবারের পক্ষে পাঁচটি শিশু লালন–পালন করা খুবই কঠিন। শিশুদের সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সমাজের বিত্তবান বা সরকারের সহায়তা প্রয়োজন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুর রউফ জানান, সরকারি কোনো তহবিল নেই। তবে চিকিৎসার সব সহায়তা দেওয়া হবে।

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন