সরাইলে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক
![]() |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সংঘর্ষ থামাতে এগিয়ে আসে একদল পুলিশ। শনিবার দুপুরে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সোয়া ১ শতাংশ সরকারি জায়গা দখল নিয়ে আগের বিরোধের জেরে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে পুলিশের দুই কর্মকর্তা ও চার সদস্যসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের ২০–২৫টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
আজ শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়। পরে যৌথ বাহিনী চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে আছেন সরাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরিদুর রেজা ও চারজন পুলিশ সদস্য। তাঁদের সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। দুই পক্ষের আহত ব্যক্তিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দেওড়া গ্রামের সোয়া শতাংশ সরকারি জায়গা দীর্ঘদিন ধরে দানা মিয়া (৪৫) দখলে রেখেছিলেন। তিন–চার বছর আগে ওই জায়গা দখলে নেন শিপন মিয়া (৫৫)। এ নিয়ে গ্রামে একাধিক সালিস বসলেও সমাধান হয়নি। পরে গ্রামের মানুষ দানা মিয়া ও শিপন মিয়াকে কেন্দ্র করে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন।
হামলায় দেওড়া গ্রামের বাসিন্দা ও শাহজাদাপুর ইউনিয়ন শাখা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিন্টু মিয়ার বাড়িতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো পক্ষেই ছিলেন না। শিপন মিয়া তাঁকে নিজের পক্ষে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু তিনি রাজি না হওয়ায় শিপন মিয়া ও তাঁর লোকজন সকালে তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। তিনি এর বিচার দাবি করেছেন।
সরকারি ওই জায়গা নিয়ে তিন–চার বছর ধরে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় শিপন মিয়ার লোকজন দানা মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে। তার জের ধরে আজ সকাল ছয়টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন দা–বললাম, ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আবারও সংঘর্ষে জড়ায়।
খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে সরাইল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুই কর্মকর্তা ও চার সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে দুপুরের দিকে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আবদুল করিম, মো. ওহিম মিয়া, মো. আলমগীর হোসেন ও শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন। সন্ধ্যায় তাঁদের সরাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সরাইল থানার ওসি মোরশেদুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যৌথ বাহিনী চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেওড়া গ্রামে পুলিশ মোতায়েন আছে।

Comments
Comments