[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ক্ষমতার পালাবদল ও পাঠ্যবইয়ে কাঁটছাঁট

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যবই দিয়ে বানানো গ্রাফিক

শুরু হলো অগ্নিঝরা মার্চ। ১৯৭১ সালের এই মাসেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতাযুদ্ধের সূচনালগ্ন হিসেবে মার্চ মাসের গুরুত্ব সবসময়ই বিশেষ। তবে এবার মাসটি এসেছে এক ভিন্নতর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে।

টানা দেড় দশক শাসনের পর গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন নিষিদ্ধ। বর্তমানে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় রয়েছে জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

শেখ মুজিবুর রহমানের সন্তান শেখ হাসিনার হাত থেকে ক্ষমতা সরাসরি জিয়াউর রহমানের সন্তান তারেক রহমানের হাতে যায়নি। মাঝে ২০২৪ সালে ৩৬ দিনের টানা আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই বছরের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং দেড় বছর ক্ষমতায় থাকে। এরপর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি।

অর্থাৎ, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া দল আওয়ামী লীগ যখন নিপীড়ন ও স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত এবং দলটির শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় সব নেতা পলাতক, তখন শুরু হলো এবারের মার্চ। আবার একাত্তরে স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবার প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পাঠ্যবই থেকে ৭ মার্চের ভাষণ বাদ পড়েছে এবং স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।

২০২৬ সালের শুরুতে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের দেওয়া পাঠ্যবইয়ে কিছু বড় পরিবর্তন এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন বইগুলোতে চব্বিশের ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। তবে বাদ দেওয়া হয়েছে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ দেওয়া শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণটি।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ বই থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণটি বাদ পড়েছে।

অষ্টম শ্রেণি ছাড়াও একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্রের বই থেকেও ৭ মার্চের ভাষণ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ের বেশ কিছু জায়গায় শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিটি বাদ দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের অনেক জায়গায় ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি নেই, যা গত বছরের বইয়েও ছিল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রথম কে দিয়েছেন বা স্বাধীনতার ঘোষক কে—এই বিতর্ক বেশ পুরনো। আওয়ামী লীগের দাবি, শেখ মুজিবুর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক। অন্যদিকে বিএনপির দাবি, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাই তিনিই ঘোষক।

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে পাঠ্যবইয়ের এই তথ্যেও। ২০২৫ সালের ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আক্রমণ চালিয়ে গণহত্যা শুরু করলে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর ২৭ মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

২০২৬ সালের একই বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। তথ্যের বাকি অংশ একই থাকলেও ২০২৪ সালের বইয়ে বিষয়টি ভিন্নভাবে ছিল। সে সময় ষষ্ঠ শ্রেণির ‘ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান’ বইয়ে বলা হয়েছিল, ‘১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন এবং ২৬শে মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন