নাট্যাঙ্গনকে উজ্জীবিত করতে স্পর্ধার উৎসব
![]() |
‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ নাটকের দৃশ্য | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, ৪. ৪৮ মন্ত্রাস, বিস্ময়কর সবকিছু, আমি বীরাঙ্গনা বলছি থেকে তবুও জেগে উঠি—সাত বছরের পথচলায় একের পর এক আলোচিত সব নাটক মঞ্চে এনেছে ‘স্পর্ধা: ইনডিপেনডেন্ট থিয়েটার কালেকটিভ’।
২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর যাত্রা করে স্পর্ধা আগামী ১২ সেপ্টেম্বর নাট্যদলটি সাত বছর পূর্ণ করছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে দেড় মাসব্যাপী ‘উৎসবে স্পর্ধা: বিদ্রোহের চেতনায় দিন প্রতিদিন’ শীর্ষক আয়োজন দিয়ে তরুণদের নিজেদের গল্প বলার ভিন্ন ভিন্ন ভাষা দিতে চায় স্পর্ধা। উৎসবটি শুরু হয়েছে ৮ আগস্ট, শেষ হবে ২০ সেপ্টেম্বর।
স্পর্ধার প্রতিষ্ঠাতা ও নাট্যনির্দেশক অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদ গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশের স্তিমিত নাট্যাঙ্গনকে উজ্জীবিত করার ভাবনা থেকেই উৎসবটি করছি। নাটকের সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের দর্শককে যুক্ত করতে চাই। আমাদের কর্মযজ্ঞ প্রসারিত করতে চাই; চলচ্চিত্র, ভিজ্যুয়াল আর্টস, সংগীত ও শিশুদের থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হতে চাই।’
![]() |
মহসিনা আক্তার নির্দেশিত ‘তবুও জেগে উঠি’ নাটকের দৃশ্যে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
স্পর্ধার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মহসিনা আক্তার বলেন, এই সময়ে সংস্কৃতিচর্চা যখন স্থবির হয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে; অনেকের মনে প্রশ্ন, সাংস্কৃতিক চর্চা করা সম্ভব কি না বা কীভাবে করব। যখন সবকিছু থেমে গেছে, তখনই মনে করি, সবচেয়ে গতিতে কাজটা করা দরকার।
উৎসবটিকে তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পূর্বরঙ্গ, উত্তাল তরঙ্গ ও অন্তিম ভাটি। পূর্বরঙ্গ পর্বে পাঁচটি কর্মশালা হওয়ার কথা রয়েছে। ৮ আগস্ট আয়োজনটি শুরু হয়েছে, শেষ হবে ৩০ আগস্ট। এতে সিনেমাটোগ্রাফি, চিত্রনাট্য, সেট ডিজাইন, মার্কেটিং ও ইনস্টলেশন আর্ট নিয়ে কর্মশালা রয়েছে।
‘উত্তাল তরঙ্গ’ বিভাগে স্পর্ধার তিনটি প্রযোজনা বিস্ময়কর সবকিছু, আমি বীরাঙ্গনা বলছি ও তবুও জেগে উঠি মঞ্চস্থ হবে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হবে বিস্ময়কর সবকিছু, নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন সৈয়দ জামিল আহমেদ। ব্রিটিশ নাট্যকার ডানকান ম্যাকমিলানের এভরি ব্রিলিয়ান্ট থিং নাটকটি অনুবাদও করেছেন তিনি। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নাটকটিতে অভিনয় করেছেন মহসিনা আক্তার।
আমি বীরাঙ্গনা বলছি মঞ্চস্থ হবে ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর। একাত্তরের বীরাঙ্গনাদের নিয়ে ১৯৯৪ সালে আমি বীরাঙ্গনা বলছি নামে একটি বই লিখেছিলেন নীলিমা ইব্রাহিম। প্রায় তিন দশক পর সেই বই অবলম্বনে একই নামে মঞ্চনাটক নিয়ে আসেন সৈয়দ জামিল আহমেদ। নাটকে দুই বীরাঙ্গনা ময়না ও মেহেরজানের বয়ানে তাঁদের ওপর চলা নির্মমতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। নাটকে অভিনয় করেছেন মহসিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বীরাঙ্গনারা এতভাবে অবহেলিত হয়েছেন, এ কথাটা বারবার ফিরে আসা দরকার। আমি বীরাঙ্গনা বলছি নিয়ে জেলায় জেলায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, কাজটাকে জারি রাখতে চাই।’
৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর মঞ্চস্থ হবে তবুও জেগে উঠি। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন মহসিনা আক্তার। মার্কিন কবি মায়া অ্যাঞ্জেলোর ‘স্টিল আই রাইজ’ কবিতার নাম থেকে নাটকের নাম নিয়েছেন মহসিনা। এই কবিতায় নিজেকে খুঁজে ফিরেছেন বহু নারী; দীর্ঘশ্বাসের পথ পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর মন্ত্র পেয়েছেন কেউ কেউ।
‘অন্তিম ভাটি’ পর্বে থাকবে ট্রেকিং অভিজ্ঞতাজাত প্যারাথিয়েটার। ঢাকা থেকে একটি দল নিয়ে দুর্গম কোনো অঞ্চলে প্রকৃতির মধ্যে প্যারাথিয়েটার করা হবে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পর্ধা জানিয়েছে, ‘২০১৮ সালে জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা দিয়ে যাত্রা শুরু করে স্পর্ধা ইনডিপেনডেন্ট থিয়েটার কালেকটিভ। এই প্রযোজনা ঘিরে অনেক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিল, কিন্তু আমরা বুঝতে পেরেছিলাম আমরা একটা কিছু ছুঁতে পেরেছিলাম। অর্থসংকট ও রিহারসালের জায়গাসংকটের মধ্য দিয়ে এরপর আমরা একে একে মন্ত্রাস, বিস্ময়কর সবকিছু, আমি বীরাঙ্গনা বলছি এবং তবুও জেগে উঠি করি। প্রতিটি প্রযোজনাই সমাজব্যবস্থার দিকে প্রশ্ন ছুড়েছে। বাংলাদেশের বহুত্ববাদী দর্শন ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনায় বিশ্বাসী স্পর্ধা আইটিসি দেশীয় নাট্যচর্চা এবং বৈশ্বিক উৎকৃষ্টতা একত্র করে মানব অস্তিত্বের অসীম বৈচিত্র্য তুলে ধরে।’
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন