বেগম খালেদা জিয়াই বাংলাদেশের প্রথম মহিলা মুক্তিযোদ্ধা: বরকতউল্লা বুলু
![]() |
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু। আজ দুপুরে কুমিল্লা নগরের টাউন হল মাঠে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘দেশের প্রথম মহিলা মুক্তিযোদ্ধা’ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু। আজ সোমবার বেলা দুইটার দিকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। কুমিল্লা নগরের টাউন হল মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বরকতউল্লা বুলু বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ওনার প্রিয় সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়াকে একটি চিরকুট পাঠিয়েছিলেন। চিঠিতে লেখা ছিল, “তুমি যেভাবে হোক তোমার দুটি নাবালক সন্তানকে পালিয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে চলে যাও। ঢাকা বা দিনাজপুর যেখানে যাও, বেঁচে থাকলে দেখা হবে, দেশ স্বাধীন হলে দেখা হবে, নাইলে মাফ করে দিয়ো।” এ চিঠি পাওয়ার পর বেগম জিয়া অনেক কষ্টে ঢাকায় আসলেন, সিদ্ধেশ্বরীতে ওনার এক আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপনে রইলেন। কিন্তু পাক হানাদার বাহিনী তাঁকে খুঁজতে খুঁজতে ১৯৭১ সালের ২২ জুলাই দুই সন্তানসহ গ্রেপ্তার করে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি বন্দী ছিলেন। কাজেই বেগম খালেদা জিয়াই হচ্ছেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা মুক্তিযোদ্ধা।’
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপির বিকল্প নেই মন্তব্য করে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান যদি দল গঠন করে না যেতেন, তাহলে বাংলাদেশের মানচিত্র অনেক আগেই পরিবর্তন হয়ে যেত। অনেক আগেই আমরা সিকিমের মতো একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত হতাম। বাংলাদেশকে যদি টিকে থাকতে হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও মানুষের স্বাধীনতাকে যদি টিকিয়ে রাখতে হয় এবং আগামী প্রজন্ম যদি স্বাধীন দেশে বসবাস করতে চায়, তাহলে বিএনপির কোনো বিকল্প নেই। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গ্যারান্টি দিতে পারা একমাত্র দলই হচ্ছে এটি।’
জামায়াতের সমালোচনা করে বুলু বলেন, ‘যাঁরা ধর্ম, হাদিস-কোরআন ও সৎ মানুষের কথা বলেন, আপনাদের তো আমরা দেখেছি, আপনাদের চরিত্র আমরা দেখেছি। ৭১ সালে আপনারা পাকিস্তানের পক্ষে গেলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছেন, আপনারা তাঁকে মানেন না। আপনারা সব সময় ইতিহাসের বিপক্ষে অবস্থান করেন, ইতিহাসের সপক্ষে আপনারা কখনো আসেননি। ৫ আগস্টের পর ডাক্তার শফিক সাহেব আপনি বললেন, আমরা আওয়ামী লীগকে মাফ করে দিলাম। বসুন্ধরার আহমেদ আকবর সোবহানের হেলিকপ্টারে করে আপনি দেশে ঘুরে বেড়ালেন আর সৎ শাসন-সুশাসনের কথা বললেন।’
এ প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা আরও যোগ করে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী করলে নাকি আপনি বেহেশতে চলে যাবেন, তাদের নেতারা এসব বলেন। যাঁরা এসব বলে থাকেন, তাঁরা কখনো মুসলমান হতে পারে না। কারণ, বেহেশতে কে যাবে এটি একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই নির্ধারণ করবেন।’ তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশে পরিকল্পিত কোনো উন্নয়ন হবে না। নির্বাচিত সরকার এলে এবং তারেক রহমান সরকার গঠন করলেই কেবল বাংলাদেশের ঋণগুলো শোধ করা যাবে। তবে কিছু ধর্মব্যবসায়ী পিআরের (পদ্ধতি) জন্য মাঠে নেমেছে, যে পিআরের কোথাও কোনো অস্তিত্বই নেই।
সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমিন-উর-রশিদ। এর উদ্বোধন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রেজাউল কাইয়ুমের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব সফিউল আলমের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলটির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আশিকুর মাহমুদ ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ইউসুফ মোল্লা প্রমুখ।
সম্মেলনের পর কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে বর্তমান আহ্বায়ক রেজাউল কাইয়ুম ও সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সদস্যসচিব সফিউল আলম রায়হানের নাম ঘোষণা করা হয়।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন