{getBlock} $results={3} $label={ছবি} $type={headermagazine}

চকরিয়া থানাহাজত থেকে যুবকের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশঃ
অ+ অ-

কক্সবাজারের চকরিয়া থানার হাজত থেকে দুর্জয় চৌধুরী নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মহাসড়ক অবরোধ করেন সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন । আজ বিকেল চারটার দিকে চকরিয়া পৌরশহরের থানা রাস্তার মাথা এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

কক্সবাজারের চকরিয়া থানার হাজত থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মহাসড়ক অবরোধ করেছেন সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন। আজ শুক্রবার বেলা তিনটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া পৌর শহরের থানা রাস্তার মাথায় এ অবরোধ করা হয়। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

আজ সকাল সাতটার দিকে চকরিয়া থানার হাজতখানা থেকে দুর্জয় চৌধুরী (২৭) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, গলায় শার্ট পেঁচিয়ে লোহার গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে দুর্জয় চৌধুরী আত্মহত্যা করেছেন।

দুর্জয় চৌধুরী চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরীর হিন্দুপাড়ার কমল চৌধুরীর ছেলে। তিনি চকরিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে চকরিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খানম একটি লিখিত অভিযোগ ও অফিস সহকারী দুর্জয় চৌধুরীকে নিয়ে থানায় যান। অভিযোগটি ছিল নকল চাবি বানিয়ে অফিসের আলমারি থেকে চেক বই বের করে চেক কেটে নিয়ে স্বাক্ষর জাল করে দুর্জয় চৌধুরী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন হিসাব (অ্যাকাউন্ট) থেকে ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও রূপায়ণ দেবের সঙ্গে কথা বলে দুর্জয়কে থানাহাজতে রাখেন। সকালে থানাহাজত থেকে দুর্জয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

থানার হাজত থেকে লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা দুইটার দিকে সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন থানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা দুর্জয় চৌধুরীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে চিরিংগা-বদরখালী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ও চকরিয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব কফিল উদ্দিন ফারুকী। পরে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে সরে গিয়ে বেলা তিনটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া পৌর শহরের থানা রাস্তার মাথায় অবরোধ করেন। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারগামী শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

বিকেল সোয়া চারটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপায়ণ দেব এবং চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিত দাস।

এসময় এএসপি অভিজাত দাস বলেন, ‘দুর্জয় চৌধুরীকে থানাহাজতে নেওয়ার পর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা পর্যন্ত প্রতিটি বিষয় খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদারক করছেন। এর পরও আপনাদের আরও অভিযোগ থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে। আপনারা মহাসড়ক ছেড়ে দিয়ে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সহায়তা করুন।’

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপায়ণ দেব বলেন, ‘তিনজনের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তিনজন কর্মকর্তা তদন্তপূর্বক তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবেন। আমরা প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

এ দুই কর্মকর্তার বক্তব্য শেষ হলে অবরোধ তুলে নেন সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে একজন এএসআই ও দুজন কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে কক্সবাজার পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন