[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

তাপমাত্রা বাড়লে রমজানে বিদ্যুতে স্বস্তি মিলবে না

প্রকাশঃ
অ+ অ-

নিজস্ব প্রতিবেদক

● মার্চের শেষে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে তাপমাত্রা।

● চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রোজার শেষে বাড়তে পারে লোডশেডিং।

প্রতীকী ছবি

চলতি রমজানে মানুষকে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি থেকে মুক্ত রাখতে চাহিদার সমান বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দিয়েছে সরকার। বায়ুতে তাপমাত্রা কম থাকায় বর্তমানে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু মার্চের শেষের দিকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে তাপমাত্রা। তখন বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে এবং সেচ মৌসুম শুরু হওয়ায় সেচেও বাড়তি বিদ্যুতের দরকার হবে। এতে পিক আওয়ারে চাহিদা গিয়ে দাঁড়াবে ১৮ হাজার মেগাওয়াট। এই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে বেগ পেতে হতে পারে বলে জানায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এতে রমজানের শেষের দিকে লোডশেডিং বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন পিডিবির প্রকৌশলীরা।

জানা গেছে, রমজান মাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য অতিরিক্ত এক কার্গোসহ মোট চার কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করছে সরকার। এতে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়বে। দেশে বর্তমানে ২৭ হাজার ৫৩৬ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে গত কয়েক দিন টানা ১১ হাজার ৫০০ থেকে ১২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এর মধ্যে একক জ্বালানি হিসেবে গ্যাস থেকে সর্বোচ্চ এসেছে ৪ হাজার ৭০০ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত। বাকি চাহিদা মেটানো হয়েছে কয়লাভিত্তিক, তেলভিত্তিক, সৌর ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ দিয়ে।

পিডিবির প্রকৌশলীরা বলছেন, এই পর্যায়ে লোডশেডিং হবে না। যদি তাপমাত্রা বেড়ে ৩৬ ডিগ্রির ওপরে চলে যায়, তাহলে সারা দেশে ফ্যান ও এসির ব্যবহার বেড়ে যাবে। এতে বিদ্যুতের চাহিদা গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। এই বিপুল বিদ্যুৎ উৎপাদন তখন আর গ্যাস দিয়ে করা যাবে না। আবার তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালালে ইউনিটপ্রতি ব্যয় দাঁড়াবে ডিজেলে ৩০ টাকা আর ফারনেস অয়েলে ১৫ টাকার বেশি। সরকারের হাতে সুযোগ থাকলেও তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো বেশি চালানো সম্ভব হবে না। কারণ এতে জ্বালানি তেল আমদানি করতে গিয়ে ডলারের ওপর চাপ বেশি পড়বে। ফলে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং বাড়াতে হবে তখন।

বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের দোকানপাট, পেট্রলপাম্প, সিএনজি স্টেশন ও শপিং মলে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করার জন্য জনসচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছে। বাড়তি আলোকসজ্জায় বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ে। এটা নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে অপ্রয়োজনীয় খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো যাবে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে জোর

রমজানে লোডশেডিং মুক্ত রাখতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে বিদ্যুতের ব্যবহার কম হবে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটা পরিপত্র জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এবার রমজান, গ্রীষ্মকাল ও সেচ মৌসুম একই সময়ে শুরু হবে। এ কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাবে। এ জন্য সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

২ মার্চ রাজধানীর কাকরাইল সার্কিট হাউস মসজিদে মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। এ সময় তিনি আসন্ন গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুম এবং পবিত্র রমজান মাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে পরিমিত ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মুসল্লিদের সহায়তা চান।

এ সময় বিদ্যুৎ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, জনগণ যদি সচেতন হয় এবং অপ্রয়োজনে বিদ্যুৎ ব্যবহার না করে, তবে এই রমজান মাসে কোনো লোডশেডিং হবে না।

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন