[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বাণিজ্য মেলা নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশঃ
অ+ অ-

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন ড. ইউনূস | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

বাণিজ্য মেলা নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এই মেলার একটি অংশ তরুণদের জন্য বরাদ্দ করা যেতে পারে। যেখানে তারা তাদের উদ্ভাবন ও ধারণা প্রদর্শন করতে পারবেন। ঢাকায় মাসব্যাপী চূড়ান্ত এই মেলার প্রস্তুতি বছরব্যাপী দেশের উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করার কথাও জানান প্রধান উপদেষ্টা।

বুধবার সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ২৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ-২০২৫) উদ্বোধন কালে প্রধান উপদেষ্টা এমন ভাবনার কথা জানান।

প্রতি বছরের মতো এবারও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করছে। এবারের বাণিজ্য মেলায় প্রথমবারের মতো অনলাইনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল ও প্যাভিলিয়ন স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো ই-টিকিটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ক্রেতা-দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে বিশেষ ছাড়ে উবার সার্ভিস।

বাণিজ্য মেলায় যাওয়ার নিজের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রথম প্রথম যখন এই মেলা শুরু হলো, কয়েকবার যাওয়া সুযোগ হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা; এখানে তিনটি শব্দ। এরমধ্যে কারও আকর্ষণ থাকে আন্তর্জাতিকে, কারও বাণিজ্যে এবং কারও কারও মেলায়। আমি আগ্রহী মেলায়।’ এসময় অনুষ্ঠানস্থলে হাসির শোরগোল পড়ে।

পরে মেলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মানুষ মাত্রই উদ্যোক্তা। শ্রমিক না, শ্রমিকটা হলো একটা বিপথে চলে যাওয়া। এটা মানুষের পথ না। মানুষের পথ হলো সৃষ্টি করা। নিজের মনের মধ্যে যা আছে তা সৃষ্টি করা। বাণিজ্য মেলা মানুষকে নিজের উদ্যোগকে ও সৃজনশীলতাকে তুলে ধরার সুযোগ দেয়। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। 

ভবিষ্যতে বাণিজ্য মেলাকে দেশব্যাপী আয়োজনের ভাবনা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, মেলায় তরুণদের কাজ নিয়ে একটা আলাদা অংশ থাকতে পারে। কিন্তু তারা তো সংখ্যায় অনেক। একারণে বছরব্যাপী সারা দেশের উপজেলা পর্যায় থেকে এই মেলার আয়োজন করা যেতে পারে। সেখানে যাদের আইডিয়া সেরা হবে, তারাই স্থান পাবে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমেলা। তাদের সব খরচের ব্যয় নির্বাহ করবে সরকার।

সেইসঙ্গে বয়স্কদের জন্যও আলাদা একটি অংশ থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। এসময় তিনি ‘রিটায়ার্ড’ শব্দ নিয়েও আপত্তি জানিয়ে বলেন, মানুষ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সচল। রিটায়ার্ড শব্দটিকেই ডিকশনারি থেকে বাদ দেওয়া উচিৎ। বুদ্ধি শতবর্ষী মানুষের কাছ থেকেও আসতে পারে, আবার পাঁচ বছর বয়সী শিশুর কাছ থেকেও আসতে পারে।

তিনি জানান, ঢাকায় এই কেন্দ্রীয় মেলায় দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারীরা অংশ নেবেন। যেখানে উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীর মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি হবে।

এবারের বাণিজ্য মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩৬১টি প্যাভিলিয়ন, স্টল, রেস্টুরেন্ট দেশীয় উৎপাদক-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে শতভাগ স্বচ্ছতায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও সাতটি দেশের ১১টি প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে।

মেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের সম্মানার্থে তৈরি করা হয়েছে ‘জুলাই চত্বর’ ও ‘ছত্রিশ চত্বর’। এছাড়া দেশের তরুণ সমাজকে রফতানি বাণিজ্যে উদ্বুদ্ধ করতে তৈরি করা হয়েছে ইয়ুথ প্যাভিলিয়ন।

মাসব্যাপী এ বাণিজ্য মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন