সেই হ্যারি কেইনেই উদ্ধার ইংল্যান্ড
ডিআর কঙ্গোকে হতাশায় ডুবিয়ে কেইন–বেলিংহামদের জয়ের আনন্দ
ইংল্যান্ড ২ : ১ ডিআর কঙ্গো
ফুটবল আবেগের এক অদ্ভুত গোলকধাঁধা, আজ এমন কিছুরই দেখা মিলল। খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ডিআর কঙ্গোর হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পা রেখেছে ইংল্যান্ড। আটলান্টা স্টেডিয়ামে ২–১ গোলের জয় পেয়েছে তারা। হ্যারি কেইন প্রমাণ করলেন, কেন তিনি থ্রি লায়নদের সবচেয়ে বড় ভরসা। যখন পুরো দল চাপের মুখে ধুঁকছিল, ঠিক তখনই কেইন তাঁর জাদুকরী পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডকে পৌঁছে দিলেন শেষ ষোলোয়।
ম্যাচের শুরুটা ছিল ইংল্যান্ডের জন্য চরম দুঃস্বপ্নের মতো। মাত্র ৭ মিনিটে গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার ইংলিশ সমর্থককে স্তব্ধ করে কঙ্গোকে এগিয়ে দেন ব্রায়ান সিপেঙ্গা। গোল হজম করে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠ যেন পুরোপুরি তালগোল পাকিয়ে ফেলে। এরপর পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে চলে ইংলিশদের গোল করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা। জুড বেলিংহাম থেকে শুরু করে মার্কাস র্যাশফোর্ড সবাই গোল করার চেষ্টা করেও কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির বাধা অতিক্রম করতে পারছিলেন না। এমপাসি যেন একাই ইংলিশদের স্বপ্ন ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার পণ করেছিলেন।
প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ড তখন চরম বিপদের মুখে। বিরতির পর কোচ টমাস টুহেল কৌশল পরিবর্তন করে মাঠে নামান বুকায়ো সাকা ও অ্যান্থনি গর্ডনকে। মাঠের প্রতিটি ইংলিশ সমর্থকের দৃষ্টি তখন কেবল একজন খেলোয়াড়ের দিকে—অধিনায়ক হ্যারি কেইন। সমর্থকেরা জানতেন, এই ঘোর দুঃসময়ে তিনিই পারেন দলকে টেনে তুলতে। আর হতাশ করেননি কেইন।
দ্বিতীয়ার্ধের ৭৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান কেইন। যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় থ্রি লায়নরা। কঙ্গোর রক্ষণভাগের ওপর শুরু হয় আক্রমণের ঝড়। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৮৬ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে বল পান কেইন। সেখান থেকে বিদ্যুৎ গতিতে ঘুরে গিয়ে ডি-বক্সের ডান প্রান্তে জায়গা তৈরি করেন তিনি। এরপর চোখ ধাঁধানো এক রকেট শটে কঙ্গোর জাল কাঁপান ইংলিশ অধিনায়ক। বলটি যখন জালের ওপরের কোণা দিয়ে ভেতরে ঢুকল, তখন আটলান্টায় যেন গগনবিদারী উল্লাস শুরু হয়। বিশ্বকাপে এটি তাঁর ১৩তম গোল।
এই গোলেই ইংল্যান্ড শেষ ষোলোতে নিজেদের জায়গা পাকা করল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের ৪ নম্বর গোলটি করে হ্যারি কেইন ছুঁয়ে ফেললেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্যার জিওফ হার্স্টের রেকর্ড। নকআউট পর্বে এখন ইংল্যান্ডের হয়ে কেইনের ওপরে কেবল গ্যারি লিনেকার (৬ গোল)। শেষ মুহূর্তে হার মানলেও, পুরো ম্যাচে কঙ্গোর ফুটবলারদের লড়াই ছিল দেখার মতো। তবে শেষ পর্যন্ত আটলান্টার রাত সাক্ষী হয়ে রইল হ্যারি কেইনের বীরত্বগাথার।
How did this article make you feel?
Related Articles
হলান্ড কি এবার ২৬০ গোলের রেকর্ড গড়বেন?
Jul 01, 2026
1 shared tag
শাকিরার ‘ডাই ডাই’ গানে ভাইরাল সিনথিয়া, কে তিনি
Jul 01, 2026 · 1 min
1 shared tag
ঘণ্টায় ৩৩.২ কিলোমিটার গতিতে ছুটলেন ভিনি, অন্য ব্রাজিলিয়ানদের কী অবস্থা
Jun 30, 2026
1 shared tag
হাইতিকে তিন গোলে উড়িয়ে জাগল ব্রাজিল
Jun 20, 2026
1 shared tag