পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

বঙ্গবন্ধু হত্যা ও ৫ আগস্টের ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা: জাসদ

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা শুধু জাতীয় ইতিহাসই নয়, বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি কালো দিন, বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাসদ নেতারা
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাসদ নেতারা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

দেশের ‘চিরশত্রুরা’ মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিচ্ছে বলে মনে করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) নেতারা।


শনিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে এক আলোচনা সভায় তাঁরা এ মত দেন বলে দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।


সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিন ১৫ আগস্ট উপলক্ষে জাসদ কার্যালয়ের কর্নেল তাহের মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাস্থলের পাশে রাখা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়।


বক্তাদের উদ্ধৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ড এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ‘ক্ষমতার পরিবর্তন’ একই সূত্রে গাঁথা।’


তাঁরা বলেন, ‘সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা শুধু জাতীয় ইতিহাস নয়, বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি কালো ও কলঙ্কিত দিন। এটি সবচেয়ে বড় বিয়োগান্তক ঘটনা।’


জাসদ নেতারা বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ‘ক্ষমতার পরিবর্তন’ একই সূত্রে গাঁথা। বাংলাদেশের জন্মশত্রু, চিরশত্রুরা মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিচ্ছে, প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে।’


বক্তারা বলেন, ‘জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে জিয়াউর রহমানের সামরিক আদালতে দণ্ড দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারে দণ্ড দেওয়া একই ধারাবাহিকতার অংশ।’


জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি শফিউদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইফুজ্জামান বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহিল কাইয়ূম, দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, জাতীয় যুব জোটের সভাপতি শরিফুল কবির স্বপন এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র) কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া।


১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়। এরপর ২০০৮ সালে একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ওই আদেশ বাতিল করে দেন হাইকোর্ট। এরপর থেকে দিনটি জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি হিসেবে পালন করা হচ্ছিল।


কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০০৮ সালের হাইকোর্টের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে দেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। এর ফলে ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি বাতিল হয়ে যায়।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.