পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও
Home / খেলা / হাইতিকে তিন গোলে উড়িয়ে জাগল ব্রাজিল
খেলা

হাইতিকে তিন গোলে উড়িয়ে জাগল ব্রাজিল

খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

· 51
গোল করে ‘হ্যাং টেন’ উদ্‌যাপন কুনিয়ার (মাঝে)। যেন সার্ফিং বোর্ডের ওপরে আছেন! বাঁয়ে আরও একটি গোল করা ভিনিসিয়ুস।। ছবি: সংগৃহীত
গোল করে ‘হ্যাং টেন’ উদ্‌যাপন কুনিয়ার (মাঝে)। যেন সার্ফিং বোর্ডের ওপরে আছেন! বাঁয়ে আরও একটি গোল করা ভিনিসিয়ুস।। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিল ৩–০ হাইতি


মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের সেই ড্রয়ের পর ব্রাজিলের ওপর চাপ ছিল স্পষ্ট। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে হাইতির বিপক্ষে যখন কার্লো আনচেলত্তির দল মাঠে নামল, তখন ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন ছিল—সেলেসাওরা কি পারবে তাদের চেনা ছন্দ ফিরে পেতে? সমালোচনার জবাব দিতে আনচেলত্তিও একাদশে দুটি বদল আনলেন; ইবানেস ও ইগোর থিয়াগোর পরিবর্তে নামিয়ে দিলেন দানিলো আর মাথিয়াস কুনিয়াকে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে কুনিয়াকে খেলানোর সিদ্ধান্তই ফিরিয়েছে ব্রাজিলের হাসি। হাইতিকে ৩–০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে জয়ের আনন্দে ভাসল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।


ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিট অবশ্য কোনো সুন্দর গল্পের মতো ছিল না। ব্রাজিল বল পায়ে রাখলেও মাঠের খেলায় ছিল না কোনো সৃজনশীলতা। হাইতির জমাট রক্ষণ ভাঙতে রীতিমতো ঘাম ছুটছিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়াদের। কিন্তু একটা ভালো গল্পের জন্য যেমন একটা মোচড় দরকার, এই ম্যাচের গল্পেও ঠিক তা-ই ঘটল ২৩ মিনিটের মাথায়।


মাঝমাঠে হাইতির এক খেলোয়াড়ের পা থেকে দারুণ চতুরতায় বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণের সূচনা করলেন মাথিয়াস কুনিয়া নিজেই। সেখান থেকে বল গেল ব্রুনো গিমারেসের পায়ে, এরপর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ভেতরে কেটে ঢুকে ভিনিসিয়ুসের নেওয়া চমৎকার বাঁকানো শটটি হাইতিয়ান গোলরক্ষক প্লাসিড ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দিলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। ফিরতি বল জালে জড়াতে কুনিয়া এবং হাইতির রক্ষণভাগের খেলোয়াড় দেলাক্রোয়া—দুজনেই একসঙ্গে বুট বাড়িয়ে দিলেন। লড়াকু জটলার ভেতর বল কুনিয়ার পায়ে লেগেই গোললাইন পেরিয়ে গেল। ভিডিও সহকারী রেফারি বা ভিডিও প্রযুক্তির সাহায্যে পরীক্ষা শেষে রেফারি গোলের বাঁশি বাজাতেই কুনিয়া মেতে উঠলেন তাঁর চেনা ‘সার্ফিং উদযাপনে’, যা তিনি গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলার সময় নিয়মিত করতেন। এই এক গোলেই যেন ব্রাজিলের সব জড়তা কেটে গেল।


এর ঠিক পরেই অবশ্য বার্সেলোনা উইঙ্গার রাফিনিয়া একটি নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া করেন। ৩৯ মিনিটে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তবে রাফিনিয়ার মাঠ ছাড়ার আগেই, ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে ব্রাজিল। এবার মাঝমাঠে হাইতির মধ্যমাঠের খেলোয়াড় ক্যাসিমিরের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দুর্দান্ত এক প্রতিআক্রমণ সাজান লুকাস পাকেতা। তাঁর পাস ধরে ভিনিসিয়ুস বক্সে থাকা কুনিয়াকে বল বাড়ালে, কিছুটা ভারসাম্যহীন অবস্থাতেই বাঁ পায়ের দর্শনীয় শটে হাইতির জালে বল জড়িয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন কুনিয়া। অথচ এই ম্যাচের আগে ব্রাজিলের জার্সিতে তাঁর গোলসংখ্যা ছিল ২৪ ম্যাচে একটি।


প্রথমার্ধের গল্পটা আরও রঙিন হয় যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে। মাঝমাঠে লুকাস পাকেতার পা থেকে উড়ে আসা নিখুঁত পাস বাতাসে ভাসতে ভাসতে খুঁজে নেয় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পা। হাইতির অফসাইড বা নিয়মের বাইরে রাখার ফাঁদ ভেঙে ভিনিসিয়ুস অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দলকে স্বস্তিতে রেখেই বিরতিতে যান।


দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি কিছুটা কমে এলেও ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণ কমেনি এক বিন্দু। উল্টো ম্যাচের ৫১ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন বেকার হাইতির আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ইসিদোরকে বক্সে চমৎকার এক পায়ের জাদুতে ফাঁকি দিয়ে গ্যালারিতে ‘ওলে’ ধ্বনি তোলেন। তবে ম্যাচের ৬৪ মিনিটে গোল শোধের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল হাইতি। তাদের নেওয়া একটি চমৎকার ভেতরের দিকে বাঁকানো কর্নার থেকে দারুণ এক ছোঁয়ায় বল ব্রাজিলের জালে জড়াতে চেয়েছিলেন আদে। কিন্তু গোললাইনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান আলিসন বেকার, তাঁর দুর্দান্তভাবে বল ঠেকানোর পর শূন্যে ভেসে উল্টো শটে বল লাইনের ওপর থেকে ফিরিয়ে দেন গাব্রিয়েল মাগালাইস।


নিশ্চিত এই বিপদ কাটার ঠিক পরপরই কার্লো আনচেলত্তি দলে দুটি পরিবর্তন আনেন। মাঠের জোড়া গোলের নায়ক কুনিয়া এবং মধ্যমাঠের খেলোয়াড় পাকেতাকে তুলে তিনি মাঠে নামান গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি এবং তরুণ বিস্ময়বালক এনদ্রিককে। রিয়াল মাদ্রিদের এই তরুণ ফুটবলারকে মাঠে নামতে দেখে গ্যালারিতে উল্লাসের জোয়ার বয়ে যায়, কেননা নিজের দেশেও তিনি সমর্থকদের অত্যন্ত প্রিয়। রায়ানের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় ৭৭ মিনিটে চমৎকার ফিনিশিংয়ে বা আক্রমণ সমাপ্তিতে হাইতির জালে বল জড়িয়েছিলেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড বা আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। কিন্তু আগেই উঠে যায় অফসাইডের বা নিয়মের বাইরে থাকার পতাকা। প্রথম ম্যাচের হতাশা ভুলে প্রথমার্ধের সেই ৩-০ ব্যবধানেই শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়ে আনচেলত্তির দল। এই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ বা গ-গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে ব্রাজিল। আর টানা দুই হারে বিশ্বকাপে সবার আগে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে হাইতির।

Share: Twitter Facebook

How did this article make you feel?

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.