পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

মাদারীপুরে মহিলা মাদ্রাসায় ককটেল বিস্ফোরণ, পাঁচ শিক্ষার্থী আহত

আহত শিশুরা গোপালপুর দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রী।

প্রতিনিধি মাদারীপুর
কালকিনিতে মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌর এলাকার গোপালপুর দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার সামনে
কালকিনিতে মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌর এলাকার গোপালপুর দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার সামনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

মাদারীপুরের কালকিনি পৌর এলাকার একটি মহিলা মাদ্রাসায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাদ্রাসার পাঁচ শিশুশিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পৌর এলাকার গোপালপুর দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।


আহত শিক্ষার্থীরা হলো কালকিনি পৌরসভার মিনাজদী এলাকার সেলিম তালুকদারের মেয়ে আবিদা আক্তার (১১), পশ্চিম মিনাজদী এলাকার ছিরাতুল তালুকদারের মেয়ে জান্নাত (১২), গোপালপুর এলাকার রুবেল মাতুব্বরের মেয়ে তাসমিয়া আক্তার (১১), একই এলাকার শাহিন সরদারের মেয়ে মিনহা (১১) ও আরিফ সরদারের মেয়ে সুলতানা (১১)।


তাদের মধ্যে গুরুতর আহত আবিদাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণে আহত শিক্ষার্থীদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার দুপুরে। ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সকালে মাদ্রাসায় আসেন শিক্ষার্থীরা। মাদ্রাসার নিচতলায় একটি ঘরের সামনে হঠাৎ একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। এতে মাদ্রাসার পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে কালকিনি থানা-পুলিশ।


মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা অখিল সরকার বলেন, বোমার আঘাতে আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর হাত ও পায়ে গুরুতর জখম হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


ঘটনার অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে পুলিশ কাজ শুরু করেছে বলে জানান কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম। র‍্যাব, সিআইডিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও মাঠে আছেন।


যে ঘরের সামনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, ওই ঘরে থাকেন ইমন সরদার নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘আমার ঘরের সামনে কীভাবে বোমা বিস্ফোরণ হলো, আমি জানি না।’



মাদ্রাসার মুহতামিম হাফিজুর রহমানের ভাষ্য, মাদ্রাসায় হঠাৎ বোমা বিস্ফোরণে তাঁরা সবাই আতঙ্কিত। কীভাবে কী ঘটেছে, তাঁরা কিছুই বুঝতে পারছেন না।


মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর-কালকিনি সার্কেল) ফারিহা রফিক বলেন, মাদ্রাসার মধ্যে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। এটি কেউ নিক্ষেপ করেনি। বস্তুটি জর্দার কৌটা বা অনেকটা টেনিস বলের মতো ছিল। শুক্রবার থেকে এটি মাদ্রাসার সিঁড়ির কাছে পড়ে ছিল। হাতে নিয়ে শিশুরা এটি নাড়াচাড়াও করেছে। শনিবার সকালে হঠাৎ বিস্ফোরণে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। বোমাটি এখানে কীভাবে এল, তা নিয়ে পুলিশের অনুসন্ধান ও তদন্ত চলছে। পুরো মাদ্রাসায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কালকিনিতে মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌর এলাকার গোপালপুর দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার সামনে। ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.