পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

আরো চড়েছে ডিমের দাম, স্বস্তি যা কাঁচা মরিচেই

খামারিদের ভাষ্য, তাদের হাত থেকে খুচরা ক্রেতার হাতে পৌঁছাতে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়ে যাচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
নিত্যপণ্যে
নিত্যপণ্যে | ছবি: কোলাজ

মাস খানেক আগে ঢাকায় ডিমের দামে যে চড়া ভাব শুরু হয়েছিল, তা আরও বেড়েছে। আর গত সপ্তাহের মতোই অধিকাংশ সবজির কেজি ১০০ টাকার আশপাশে রয়েছে। কাঁচাবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কাঁচা মরিচে। ৪০০ টাকা থেকে কমতে কমতে কেজি নেমেছে ২০০ টাকায়।


রাজধানীর রায়ের বাজার কৃষি মার্কেট, মোহাম্মদপুরের টাউন হল ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে। জানা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ১০ টাকা বেড়ে শুক্রবার এসব বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। ঢাকার বাজারে ডিমের দাম বাড়তে শুরু করে গত মাসের শুরুর দিকে। গত ১০ জুলাই ফার্মের প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ১৩০ টাকা। এর এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ১২০ টাকা। ১৩০ টাকা থেকে পরের সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়ে হয় ১৪০ টাকা। এরপর তা বেড়ে দেড়শ টাকা হয়, যা এখন ঠেকেছে ১৬০ টাকায়।


খামারিদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের কাছ থেকে খুচরা ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাতে প্রতি ডজন ডিমের দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে যাচ্ছে।


মানিকগঞ্জের খামারি শাহীন মিয়া বলেন, ‘লাল বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। আর সাদাটা ৯ টাকা ৫০ পয়সা।’ তাঁর হিসাবে, খামারি পর্যায়ে এক ডজন লাল ডিমের দাম পড়ছে ১২৬ টাকা।


বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে বিএনপি বাজারে ডিমের পাইকারি ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন বলেন, ‘তেজগাঁও আড়তে ডিমের দাম বেশি। একশ লাল ডিম কিনতে ১১৫০ টাকা দিতে হয়; ডজন পড়ছে ১৩৮ টাকা। আমরা খুচরা বিক্রি করছি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়।’


টাউন হলের ডিম বিক্রেতা আহমদ মিয়া বলেন, তাঁরা এখন ফার্ম থেকে ১০০টি ডিম ১ হাজার ২২০ টাকায় কিনছেন।


অর্থাৎ, এই খুচরা ব্যবসায়ীর প্রতি ডজনে কেনা পড়েছে ১৪৬ টাকা ৪০ পয়সা।


চাহিদা বাড়ায় ডিমের দাম বেড়েছে বলে মনে করেন তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আমানত উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘উৎপাদন ঠিক ছিল। চাহিদা বাড়ছিল। বর্ষায় শাক-সবজি মার খাইছিল। এজন্যই ডিমের দামটা একটু বেশি ছিল। আর বাড়বে না; কমবে।’


খামারি থেকে খুচরা বাজারে আসতে প্রতি ডজনে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এটা বেশি না। তিন চার ধাপ পার হয়ে বাজারে আসে। ৫ থেকে ১০ টাকা তো লাভ করতে হবে।’


শাহীন মিয়া বলেন, ‘আমাদের কোনো লাভ নেই। সাভার ও তেজগাঁওয়ের ব্যবসায়ীরা ডিমের দাম ঠিক করে। তারা মেসেজের মাধ্যমে কয়েক দিন কমায়। আমাদের কাছ থেকে কিনে জমা করে। পরে তারাই ডিমের দাম বাড়িয়ে বাজারে বিক্রি করে। এদিকে আমাদের খরচ ওঠে না। তারা কিছুই করে না; উৎপাদন করে না; খাবার-ওষুধ কিনে না। সব খরচ খামারিদের। কিন্তু লাভটা যায় সিন্ডিকেটের পকেটে।’


চলতি মাসে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। ভারত থেকে আমদানি বাড়ায় তা কমতে শুরু করে। গত সপ্তাহে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে কাঁচা মরিচের দাম ছিল ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা। তবে শুক্রবার আরও কমে নেমেছে ২০০ টাকায়। সাদেক খান কৃষি মার্কেটে পাইকারিতে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছিল ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা।


এ বাজারের পাইকারি বিক্রেতা মো. ছালাম বলেন, ‘দেশের বাইরে থেকে মরিচ আসায় দুই সপ্তাহ ধরে দাম কমছে। সামনে আরও কমতে পারে। তবে ভারত থেকে আসা মরিচের চেয়ে দেশি মরিচের দাম একটু বেশি। কারণ ভারতের মরিচ আকারে ছোট; ময়লাও আছে।’


সরবরাহ ঘাটতির কথা শোনা না গেলেও সবজির বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। দাম গত সপ্তাহের মতোই; বেশির ভাগ সবজির কেজি ৮০ টাকার ওপরে। এদিন বাজারে লম্বা আকৃতির বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছিল ১২০ টাকা। গোল বড় বেগুনের কেজি আরও বেশি, ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। বরবটি ও করলা কেজি ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। এ ছাড়া শসার কেজি ৮০ টাকা; ঢেঁড়স ও পটল ৫০ থেকে ৬০ এবং পেঁপের কেজি ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা।


একেকটি চালকুমড়া বিক্রি হচ্ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। মিষ্টি কুমড়ার কেজি ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা।


সাদেক খান কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আড়তে সবজি বেড়েছে। দাম তুলনামূলক কম থাকার কথা। কিন্তু এখনো আড়তে দাম বেশি। বেশির ভাগের কেজিই ৮০ টাকার উপরে।’


দামে একটু স্বস্তি পেতে সাপ্তাহিক বাজার করতে শুক্রবার সকালে কারওয়ান বাজারে আসেন মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ার বাসিন্দা সাইফুল হক জেলিড। তিনি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে শাক-সবজির দাম বেশি ছিল; মুরগির দামও বেশি। এজন্যই ডিম একটু বেশি কেনা হয়। কিন্তু ডিমেরও দাম বেড়ে গেছে। ৪০ টাকার ডিম এখন ৫৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে।’


দুই সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দাম স্থির রয়েছে। খুচরায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়।

সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। এদিন কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে এক পাল্লার (পাঁচ কেজি) দাম ছিল ১৩০ টাকা। গত শুক্রবার খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছিল ২০০ টাকায়। গলির দোকান থেকে কিনতে আরও ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি গুনতে হয়েছে।


এই সপ্তাহেও একই দামেই কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তবে কারওয়ান বাজারে কেজিতে ১০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে। ছাড়া আগের মতোই সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.