পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

টিসিবির ২৪ পণ্যের মূল্য তালিকা, বাস্তবে কত দাম?

রাষ্টায়ত্ত বিপণন সংস্থার তালিকা অনুযায়ী, বছর ব্যবধানে ১৫টির দাম বেড়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
টিসিবি
টিসিবি | প্রতীকী ছবি

রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যতালিকা দেয়। এর সঙ্গে বাজারদরের কতটা মিল আছে?


শুক্রবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দেওয়া তালিকায় ৫৫টি পণ্যের দাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় প্রতিদিন মানুষ কেনে—এমন ২৪টি পণ্যের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে ১৫টির দাম বেড়েছে, ছয়টির কমেছে এবং তিনটির দামে পরিবর্তন হয়নি।


কিন্তু কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দাম বাড়া ও কমার তালিকায় থাকা কিছু পণ্য কিনতেও বাজারে টিসিবির দরের চেয়ে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে।


টিসিবি বলছে, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল, মহাখালী ও রামপুরা বাজারের পণ্যের দামের ভিত্তিতে তারা বাজারমূল্যের এ তালিকা তৈরি করেছে। তাদের তথ্যে একটি পণ্যের একাধিক শ্রেণিও রয়েছে। শ্রেণি অনুযায়ী দামও দেওয়া হয়েছে।


টিসিবির হিসাবে, ব্রয়লার মুরগির দাম এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৭ শতাংশ। এক বছর আগে ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার বর্তমানে কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


তবে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের খুচরা বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গলির দোকান থেকে কিনতে আরও ৫ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।


এদিকে খুচরা বাজারে সোনালি মুরগির দাম ৩৪০ টাকা। গত তিন সপ্তাহ ধরেই এই দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি। তবে কারওয়ান বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে।


ব্রয়লারের তুলনায় দেশি মুরগির দাম বেড়েছে আরও বেশি। টিসিবির হিসাবে, এ মুরগির বর্তমান দর কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা। এক বছর আগে ছিল ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা। দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ। বাজারেও দেশি মুরগি প্রায় এই দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।


টিসিবি বলছে, এক বছর আগে গরুর মাংসের দাম ছিল ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা। বাজার ও মহল্লার দোকানেও একই দামে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস।


রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থাটির হিসাবে ফার্মের ডিমের দামও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি হালি (চারটি) ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক বছর আগে ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।


কিন্তু বাজারে এক হালি লাল ডিম কিনতে ভোক্তাদের দিতে হচ্ছে ৫৫ টাকা। যদিও প্রতি ডজন লাল ডিমের দাম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় স্থির রয়েছে। সাদা ডিমের ডজন ১৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে গত এক মাস ধরেই।


ভোজ্য তেলের দামও এক বছর আগের তুলনায় এখন বেশি। খোলা সয়াবিন তেলের বর্তমান দাম লিটারপ্রতি ১৮৬ থেকে ১৯৫ টাকা। এক বছর আগে ছিল ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা। দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।


দুই লিটারের বোতলের সয়াবিন তেলের দাম মানভেদে ৩৯৮ থেকে ৪১০ টাকা। এক বছর আগে ছিল ৩৭৫ থেকে ৩৭৮ টাকা। দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।


টিসিবি বলছে, এক লিটার বোতলের সয়াবিন তেলের বর্তমান দাম ১৯৯ থেকে ২০৪ টাকা। এক বছর আগে ছিল ১৮৮ থেকে ১৯০ টাকা। দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ।


খোলা পাম তেলের দামও বাড়ার তথ্য দিয়েছে টিসিবি। এক বছর আগে এ তেল লিটারপ্রতি ছিল ১৫৩ থেকে ১৬০ টাকা। ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৬৬ থেকে ১৭২ টাকায়।


টিসিবির হিসাবে, বছর ঘুরতেই আলুর দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ২২ শতাংশ। বর্তমানে আলুর দাম কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা। এক বছর আগে ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা। বাজারেও এ দামেই বিক্রি হচ্ছে আলু।


টিসিবির দাম বাড়ার তালিকায় আছে খোলা ময়দা। বছরের ব্যবধানে এ ময়দার দাম বেড়ে বর্তমানে কেজিপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক বছর আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা। দাম বেড়েছে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ।


রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি বলছে, প্যাকেটজাত ময়দার দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। এক বছর আগে ছিল ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে দাম বেড়েছে ১৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।


আটার দামও বেড়েছে। খোলা সাদা আটার বর্তমান দাম কেজিপ্রতি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। এক বছর আগে ছিল ৪৫ থেকে ৫২ টাকা। বছরের ব্যবধানে দাম ১ শতাংশ বেড়েছে।


টিসিবির ময়দা ও আটার দামের এ তালিকার সঙ্গে বাজারদরের মিল রয়েছে।


খাদ্যপণ্যের সঙ্গে পড়ুয়াদের লেখার কাগজের দামও এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বাড়ার তথ্য দিয়েছে রাষ্ট্রীয় এ সংস্থাটি। শুক্রবার প্রতি দিস্তা খাতা ৩৪ থেকে ৪০ টাকা বিক্রি হয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা।


অন্যদিকে কয়েকটি পণ্যের দাম কমার তথ্য রয়েছে টিসিবির তালিকায়।


এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে কাঁচামরিচের দাম। বছরের ব্যবধানে ৪০ শতাংশ দাম কমার কথা বলেছে টিসিবি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বাজারে এ পণ্যটি কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক বছর আগে ছিল ১৮০ থেকে ২২০ টাকা।


কিন্তু গত মাসে প্রতি কেজি কাঁচামরিচের দাম ৩৬০ টাকায় উঠে গিয়েছিল।


টিসিবির হিসাবে দেশি পেঁয়াজের দামও কমেছে। বর্তমানে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। এক বছর আগে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। দাম কমেছে ৩০ শতাংশ। এক মাসে কমেছে সাড়ে ৪ শতাংশ।


তবে কারওয়ান বাজার কিংবা খুচরা বাজার থেকে দুই কেজি ৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।


টিসিবির তথ্য বলছে, ডালের বাজারে এক বছরের ব্যবধানে দাম কমেছে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ। বড় দানার মসুর ডালের বর্তমান দাম কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ টাকা। এক বছর আগে ছিল ৯৫ থেকে ১১০ টাকা।


এক বছর আগে প্রতি কেজি মাঝারি দানার মসুর ডালের দাম ছিল ১১০ থেকে ১৪০ টাকা। ৬ শতাংশ কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।


কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার ঘুরে এ দাম দেখা গেছে।


টিসিবির সঙ্গে বাজারদরের তথ্য মিলিয়ে দেখা গেছে, ছোট দানার মসুর ডালের দাম বর্তমানে এবং এক বছর আগে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ছিল।


তবে টিসিবির বাজারতালিকায় চালের দাম এক বছরের তুলনায় কমার তথ্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম আরও বেশি।


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বছরের ব্যবধানে ৩ শতাংশ কমে প্রতিকেজি সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮৫ টাকায়। মোটা চালের দাম কমেছে ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। এক বছর আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। বর্তমানে এর দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।


কিন্তু মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট থেকে এ চাল কিনতে গুনতে হচ্ছে কেজিতে ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা।


শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে এ মার্কেট থেকেই মাঝারি (আটাশ) চালের ২৫ কেজি বস্তা কিনেছিলেন গার্ডিয়ান বীমা কোম্পানির কর্মকর্তা সত্যজিৎ মণ্ডল।


তিনি বলেন, ‘এই এক বস্তা চাল নিল ১৪২০ টাকা। যখন কেজি কিনতে চাইলাম তখন ৫৭ টাকা চায়।’


সবজিতে দাম বৃদ্ধির মিশ্র প্রবণতা দেখা যায়। তবে সবজির বাজারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশিরভাগ পণ্যে স্বস্তি মিলছে।


টিসিবির বাজারদরের তালিকায় শুধু বেগুন ও শসার দাম রয়েছে। এক বছরে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বেগুনের দাম। টিসিবির হিসাবে বর্তমানে বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকা। এক বছর আগে ছিল ৫০ থেকে ১০০ টাকা।


বছরের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে ১১ শতাংশ।


এদিকে বছরের ব্যবধানে ৭ শতাংশ কমে প্রতিকেজি শসা বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকায়।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.