রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বললেন ‘এটি কল্পনার বাইরে’
বৃহস্পতিবার বিকেলে এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় তিনি বলেন, এটি কল্পনার বাইরে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলা এবং পদত্যাগের যে গুঞ্জন উঠেছে, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও অবাস্তব বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় তিনি বলেন, 'এটি কল্পনার বাইরে।'
এর আগে বুধবার থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্ট থেকে এই আলোচনার সূত্রপাত। পরে কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, সম্প্রতি লন্ডনে চিকিৎসার জন্য গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এই ঘটনার জেরে সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে এবং আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন।
তবে ফোনালাপের এই খবরের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছুই জানে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। আজ বিকেলে তিনি বলেন, 'এ ধরনের ফোনালাপের কোনো তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। সত্যিই যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, তবে সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।'
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদে থাকা না-থাকা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ধারণা করা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি পদে কোনো পরিবর্তন আনা হতে পারে। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বরং সব রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সরকারপ্রধানের যৌথ উপস্থিতি দেখা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে নতুন কাউকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগের সুযোগ পাবে বিএনপি। শাসক দল থেকে তাদের নিজস্ব কাউকে এই পদে বসানো হবে, নাকি দলের বাইরের কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া হবে—এ নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহল ও রাজপথে।