কুমিল্লায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৮০ বছরের বৃদ্ধ আটক
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক বৃদ্ধকে আটক করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর শুক্রবার বিকেলে আনু মিয়া নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
অভিযুক্ত আনু মিয়া (৮০) উপজেলার ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা। তবে তিনি একই ইউনিয়নের আরেকটি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে সেখানেই তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় লোকজন ও শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটির মা–বাবা ঋণের কারণে প্রায় এক মাস ধরে এলাকায় নেই। এ কারণে মেয়েটি তার চাচা ও চাচির কাছে থাকছে। ঘটনার দিন শিশুটিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে আনু মিয়া ঘরে নিয়ে যান। শিশুটির সঙ্গে থাকা আরেক শিশুকে ৫০ টাকা দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়। এরপর মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন আনু মিয়াকে আটক করেন। ওই দিন রাতে তাঁকে একটি বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও ওই ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আনু মিয়া। স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটকের পর বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখার সময় তিনি বলেন, শিশুটি তাঁর কাছে তরকারি নিতে গিয়েছিল। শিশুটির ওপর কোনো ধরনের নির্যাতনের চেষ্টা তিনি করেননি বলেও দাবি করেন।
ঘটনার দিন মনোহরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সুনয়ন বড়ুয়া একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এবং আরেকজন উপপরিদর্শক ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তখন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বাঁধা দেখিনি; জানতে পেরেছি স্থানীয়রা তাঁকে ছেড়ে দিয়েছেন। পরে আমরা শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি—তারা বলেছে এমন কিছু ঘটেনি। এ ছাড়া পুলিশ সেখানে যাওয়ায় তাদের কয়েকজন বিরক্তি প্রকাশ করেছিল। পরে আমরা তাদের থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে চলে আসি।’
শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকসুদ আহমেদ বলেন, ‘এমন একটি ঘটনার কথা শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত শিশুটির পরিবারের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি।’ শিশুটির মা–বাবা ঋণের কারণে এলাকাছাড়া—বিষয়টি তাঁর নজরে আনা হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি তিনি জানতেন না। এখনই আবার ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। এরপর এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পরে শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, বিকেলে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানা-পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। শিশুটির মা–বাবা এলাকায় না থাকায় তাঁর চাচা বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে পুলিশকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘থানায় বর্তমানে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।’
বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকসুদ আহমেদ ঘটনার সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে বলেন, আনু মিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার দিন সেখানে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কি না, সেটিও দেখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।