পুলিশের যানবাহন হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, সতর্কতা জারি
শনিবার জরুরি বার্তায় এসব নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর
সারা দেশে পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুষ্কৃতকারীরা পুলিশের জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর হামলা চালাতে পারে—গোয়েন্দা সংস্থার এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার জরুরি বার্তায় এসব নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
সম্প্রতি রাজধানীর একাধিক স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় বোমা ও বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানীর অদূরে সাভারের আশুলিয়ায় মিলেছে ‘প্রেশার কুকার বোমা’। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, পুলিশের যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে দায়িত্ব পালনের সময় এবং দায়িত্ব শেষে পার্কিং করা যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়, দায়িত্ব পালনরত কোনো যানবাহন সাময়িকভাবে থামানোর প্রয়োজন হলে সেটি অবশ্যই নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে হবে এবং পুলিশের সদস্যদের সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই চালক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ছাড়া যানবাহন ফেলে রাখা যাবে না। অর্থাৎ অভিভাবকহীন বা চালকহীন অবস্থায় কোনো পুলিশি যানবাহন রাখার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া দায়িত্ব শেষে থানা, পুলিশ লাইনস, কার্যালয় চত্বর কিংবা অন্যান্য নির্ধারিত স্থানে রাখা সব সরকারি যানবাহনের নিরাপত্তাও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে নিয়মিত টহল, প্রয়োজনীয় নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ, জেলা ও ইউনিটের কর্মকর্তাদের নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নে বার্তায় আহ্বান জানানো হয়েছে।
জানতে চাইলে এআইজি (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানান, ‘পুলিশের যানবাহন ও পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এই নির্দেশনায় আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই।’
রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনার সঙ্গে শনিবার মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধার করা বোমা সদৃশ বস্তুর কোনো সম্পৃক্ততা বা যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শামসুল হক জানান, মতিঝিলে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের ঘটনার সঙ্গে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটে উদ্ধার হওয়া বোমা সদৃশ বস্তুর কোনো যোগসূত্র এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কারা এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে বা এর পেছনে কোনো অপরাধী চক্র জড়িত কি না প্রশ্নে তিনি জানান, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এই বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মতিঝিলে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় অগ্রগতির বিষয়ে শামসুল হক জানান, ওই ঘটনায় পুলিশ, সিটিটিসি ও ডিবি যৌথভাবে কাজ করছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমকে জানানো হবে। নজরদারি ক্যামেরার ধারনকৃত ভিডিও বা দৃশ্যপটসহ (সিসিটিভি ফুটেজ) সংশ্লিষ্ট সব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।
রাজধানীজুড়ে বোমা আতঙ্কের বিষয়ে তিনি জানান, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সন্দেহজনক কোনো বস্তু পাওয়া গেলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। তবে গুজব বা অযথা আতঙ্ক ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
How did this article make you feel?