[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঠিকাদারের ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার

প্রকাশঃ
অ+ অ-
লাঠি হাতে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীকে তাড়া করেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন। গত সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর বাজারে | ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় রাস্তার নিম্নমানের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক প্রকৌশলীকে মারধর ও বাঁশ নিয়ে তাড়া করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঠিকাদার লোকমান হোসেন ও তাঁর গাড়িচালকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ এই মামলায় ঠিকাদারের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবস্থাপকের নাম ফোরকান মিয়া। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী ও নবীনগরের উপসহকারী প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলাম নবীনগর থানায় মামলাটি করেন।

মামলায় জেলা শহরের ছয়বাড়িয়ার বাসিন্দা ও মেসার্স লোকমান হোসেনের মালিক ঠিকাদার লোকমান হোসেন এবং তাঁর গাড়ির চালক নবীনগরের নারুই গ্রামের মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, নবীনগরের মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পায় রাজশাহীর মেসার্স বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়কটি নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের পক্ষে সড়কটির কাজ করছিলেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন। তবে সড়কটি নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তোলেন। গত রবিবার এলাকাবাসী অনিয়মের অভিযোগে কাজে বাধাও দেন। পরে উপজেলা প্রকৌশলীসহ অন্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিম্নমানের কাজের অভিযোগ পেয়ে সোমবার দুপুরে উপজেলার মেরকুটা থেকে শিবপুর বাজার সড়ক পরিদর্শন করতে যান এলজিইডির প্রকৌশলীদের একটি দল। সেখানে তাঁরা কাজের ত্রুটি খুঁজে পান। রাস্তার নির্মাণকাজে যুক্ত ঠিকাদার লোকমানকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি সরকারি কাজে বাধা দেন। নিম্নমানের কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার লোকমান প্রকৌশলীদের গালিগালাজ শুরু করেন। গালি দিতে নিষেধ করায় লোকমান, তাঁর চালক বিল্লালসহ অন্যরা উপসহকারী প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলামকে লাঠি দিয়ে পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন এবং ইট ছুড়ে মারেন। সহকর্মীরা তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আসামিরা তাঁকে হত্যার হুমকি দেন ও ধাওয়া করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ১৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ঠিকাদার লোকমান হোসেন অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষায় প্রকৌশলীকে গালিগালাজ করছেন। একপর্যায়ে প্রকৌশলীকে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। তাঁর পেছনে বাঁশ নিয়ে তাড়া করেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন।

এলজিইডির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলীল জানান, সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়ম ধরা পড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদার অফিসকে না জানিয়ে রাতের আঁধারে কাজ চালিয়ে যান। রাতে উপজেলা প্রকৌশলী ও তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান। তখন নির্দেশ দেওয়া হয় যে, যতটুকু অনিয়ম হয়েছে, তা ভেঙে নতুন করে করতে হবে। সোমবার দুপুরে এলজিইডির একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল সরজমিনে পরিদর্শনে যান। সেখানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং ঠিকাদার ও তাঁর লোকজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধর করেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন না ধরায় ঠিকাদার লোকমান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলা থেকে ঠিকাদারের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন