[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

চান্দিনায় এসি ল্যান্ডের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা, দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়া হলো

প্রকাশঃ
অ+ অ-
কুমিল্লার চান্দিনা থানায় মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন দুই সাংবাদিক। বুধবার বিকেলে | ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে কথা কাটাকাটি ও ভিডিও করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে পুলিশ তাঁদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। বুধবার বেলা দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পরে বিকেল চারটার দিকে মুচলেকা নিয়ে ওই দুই সাংবাদিককে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী সাংবাদিকেরা হলেন স্থানীয় দৈনিক আমার শহরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি আবদুল আলীম এবং দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার দেবীদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার। তাঁদের অভিযোগ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরের খারাপ আচরণের ভিডিও করায় তাঁদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। থানায় নিয়ে তাঁদের মুঠোফোন থেকে ছবি ও ভিডিও মুছে দেওয়া হয় এবং জোর করে মুচলেকা নেওয়া হয়।

তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূর বলেন, পুরো ঘটনাটি ভুল–বুঝাবুঝি থেকে হয়েছে। হাতকড়া পরানোর আগ পর্যন্ত তিনি জানতেন না তাঁরা সাংবাদিক। পরে দুই পক্ষ বসে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।

বুধবার রাতে সাংবাদিক আবদুল আলীম বলেন, তাঁর খালাতো বোনের পরিবারের একটি নামজারির শুনানির দিন ছিল। বেলা ১১টার দিকে তিনি ও সাংবাদিক রাসেল সরকার ভূমি কার্যালয়ে যান। বেলা ২টার কিছু আগে তাঁরা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরকে জিজ্ঞেস করেন, শুনানি হবে কি না। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে খারাপ আচরণ শুরু করেন। তখন তিনি মুঠোফোনে সেই আচরণের ভিডিও করতে গেলে ফয়সাল আল নূর তা টের পান। এরপর তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোন কেড়ে নিতে চাইলে তিনি বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের দুজনকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ তাঁদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। তখন তাঁরা একাধিকবার নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিলেও পুলিশ জানায়, এটি ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ।

আব্দুল আলীম অভিযোগ করেন, থানায় নেওয়ার পর তাঁর মুঠোফোন নিয়ে সেটির লক খুলে গ্যালারির সব ছবি ও ভিডিও মুছে দেওয়া হয়। পরে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবেন না—এ মর্মে তাঁদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূর বলেন, ঘটনার সময় তিনি একটি শুনানিতে ছিলেন। ওই সময় তাঁরা কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। তিনি তাঁদের বলেন, শুনানি শেষে ডাকা হবে। কিন্তু তাঁরা তখনই কাজ শেষ করার কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি দেখেন, তাঁরা অনুমতি ছাড়াই ভিডিও করছেন। এতে তিনি বিব্রত হন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশ এসে তাঁদের আচরণের কারণে হাতকড়া পরায়। পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁরা সাংবাদিক। তখনই তিনি পুলিশকে হাতকড়া খুলে দিতে বলেন।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সমাধান হয়ে গেলেও তা ছড়িয়ে দিয়ে তাঁকে বিব্রত করা হচ্ছে। তিনি কোনোভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি।

বুধবার সন্ধ্যায় ওই দুই সাংবাদিকের হাতকড়া পরা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকেরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক (ফারুক) বলেন, ‘সাংবাদিকেরা সমাজের বিবেক। তাঁদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। কাজ করতে গিয়ে কেউ ভুল করলে প্রেস ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরানো আমাদের হৃদয়ে আঘাত করেছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই। দ্রুত ওই সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বুধবার রাতে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে, তবে এখনো পুরো ঘটনা জানা হয়নি। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক। সাংবাদিকেরা আমাদের দর্পণ। আমরা তাঁদের প্রতি আন্তরিক। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন