[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

দরবারে এখনো ধোঁয়া, আহতরা আতঙ্কিত

প্রকাশঃ
অ+ অ-
দরবারে আগুনে পোড়ানো ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। রোববার সকাল ৯টায় কুষ্টিয়া দৌলতপুরে ফিলিপনগর ইউনিয়নের ফিলিপনগর গ্রামে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলা ও ভাঙচুর চালানো সেই দরবারে এখনো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে। রোববার সকাল নয়টায় সেখানে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। শনিবারের ওই ঘটনায় আহত দুই নারীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা আতঙ্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁদের চোখে-মুখে এখনো সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দরবারের দুটি দালানের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। আগুনে দুটি আধা পাকা ঘর সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে, যার একটি থেকে তখনো ধোঁয়া বের হচ্ছিল। পুরো এলাকায় ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। আশপাশের বিভিন্ন বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুরা দরবারে এসে নীরবে দাঁড়িয়ে ধ্বংসস্তূপ দেখছেন। পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে দরবারের সামনে ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

দরবারের সামনে বাঁশবাগানের ভেতর দাঁড়িয়ে ছিলেন নিহত পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরের বড় ভাই ফজলুর রহমান। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক। গণমাধ্যমের পরিচয় পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে ফজলুর রহমান বলেন, ‘চোখের সামনে ভাইকে কোপাতে দেখেছি, তার পুরো শরীর রক্তে ভেজা ছিল। সে যদি কোনো অন্যায় করত তবে বিচার হতো; কিন্তু এভাবে একজন মানুষকে কখনো মারা যায় না।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, গতকাল দুপুরে গ্রামের মসজিদে নামাজ শেষ করে বাড়িতে খাবার খাওয়ার সময় হঠাৎ মানুষের হইচই শুনতে পান। বাইরে বেরিয়ে দেখেন, দরবারের সামনে দেড়শ জনের মতো মানুষ ভাঙচুর চালাচ্ছে। তারা তাঁর ভাইকে দোতলা থেকে টেনে নিচে নামিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ পীর শামীম রেজাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হলেও বর্তমানে তাঁরা আশঙ্কামুক্ত।

আতঙ্কগ্রস্ত দরবারের অনুসারী এক নারী | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান জানান, শামীম নামের ওই ব্যক্তির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। তাঁর শরীরে কোপানোর গভীর ক্ষত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসা শুরু করার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তিনি মারা যান।

নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান জানান, তাঁর ভাইয়ের মরদেহ বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর পারিবারিক কবরস্থানে বাবা ও দাদির কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।

কথা বলার সময় ফজলুর রহমানের ফোনে একটি কল এলে তিনি অপর প্রান্তের ব্যক্তিকে বলছিলেন, ‘জানাজায় যদি অন্য কেউ না আসে, তবে আমরা ভাইয়েরাই জানাজা পড়াব। তবুও ভাইয়ের লাশ বাড়িতে আনব।’ এ ঘটনায় মামলা করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাফন শেষে পরিবারের সবাই মিলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

পড়ে আছে দরবারের বিভিন্ন সরঞ্জাম | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পীর শামীম রেজা পবিত্র কোরআন নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন—এমন একটি পুরোনো ভিডিও গত শুক্রবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে গতকাল সকালে দরবার থেকে আধা কিলোমিটার দূরে শতাধিক মানুষ জড়ো হয়। পরে দুপুরের দিকে তারা দরবারে হামলা চালায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, গ্রামের রাস্তা দিয়ে শতাধিক মানুষ স্লোগান দিতে দিতে দরবারের দিকে যাচ্ছে। মিছিলের একটি অংশ দরবারের দুটি পাকা ভবন ও একটি টিনশেড ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় ভেতরে থাকা ৫ থেকে ৭ জন আহত হন এবং বাকিরা পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কুষ্টিয়ায় পীরকে কুপিয়ে হত্যা
Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন