[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ফুল ভাসিয়ে শুরু হলো বিজু উৎসব, প্রার্থনা বিশ্বশান্তির

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ফুল ভাসাতে এসে প্রার্থনা করছে শিশুরা। আজ সকালে খাগড়াছড়ির পানছড়ির রাবার ড্যাম এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

পুরোনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নিতে চাকমা সম্প্রদায়ের তিন দিনব্যাপী বিজু উৎসব রোববার শুরু হয়েছে। ভোর থেকে নদী, খাল ও ঝরনাসহ বিভিন্ন স্থানে ফুল ভাসিয়ে এই উৎসবের সূচনা হয়।

উৎসবের প্রথম দিনকে বলা হয় ‘ফুল বিজু’। এই দিনে প্রার্থনা করার পাশাপাশি বাড়িঘর পরিষ্কার করে সাজানো হয়। সুন্দর পৃথিবীর আশায় চাকমা নারী, পুরুষ ও শিশুরা ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনা করেন। নারীরা তাঁদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পিনন-হাদি এবং পুরুষেরা ধুতি পরে এই উৎসবে যোগ দেন।

ভোরে পানছড়ি উপজেলার রাবার ড্যাম এলাকায় চেঙ্গী নদীতে গিয়ে দেখা যায়, ফুল ভাসাতে স্থানীয় চাকমা বাসিন্দারা ভিড় করেছেন। তাঁদেরই একজন প্রবীণ বসুন্ধরা চাকমা। দুই কিলোমিটার দূরের লতিবান এলাকা থেকে এসেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘একসময় সন্তানদের নিয়ে ফুল ভাসাতে আসতাম। এখন বয়স বাড়ায় কষ্ট হলেও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে এসেছি মনের শান্তির জন্য। এবার মনভরে প্রার্থনা করলাম, সবাই যেন মিলেমিশে ভালো থাকতে পারি এবং পৃথিবীতে শান্তি বজায় থাকে।’

পানি নিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন কয়েকজন। আজ সকালে খাগড়াছড়ির পানছড়ির রাবারড্যাম এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ফুল ভাসাতে আসা তরুণীদের একজন প্রিসিলা চাকমা। তিনি বলেন, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসিয়ে আগামী দিনগুলোর জন্য সুখ ও শান্তি কামনা করেছি। এখানে শত শত নারী-পুরুষ উৎসবে যোগ দিয়েছেন। আমিও সারা বছর এই দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকি।’

আমরা বন্ধুরা মিলে চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসিয়ে আগামী দিনগুলোর জন্য সুখ–শান্তি কামনা করেছি। এখানে শত শত নারী-পুরুষ উৎসবে যোগ দিয়েছেন। আমিও সারা বছর অপেক্ষায় থাকি এদিনটার জন্য।

— প্রিসিলা চাকমা, বাসিন্দা, পানছড়ি

 

উৎসব দেখতে রাবার ড্যাম এলাকায় ভিড় করেন সমতলের মানুষও। কক্সবাজার থেকে এই উৎসব দেখতে আসেন উপমা বড়ুয়া ও সালমা আক্তার। তাঁরা জানান, দুই বছর আগে একবার রাঙামাটিতে ফুল ভাসানোর উৎসব দেখতে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেই আয়োজন দেখে তাঁরা মুগ্ধ হয়েছিলেন। তাই এবার আবারও এই উৎসব দেখতে এসেছেন।

চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনা করছেন কয়েকজন। আজ সকালে খাগড়াছড়ির খবং পড়িয়া এলাকা থেকে তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

 সরেজমিনে উল্টাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান সুব্রত চাকমার সঙ্গেও কথা হয়। তিনি বলেন, ‘বিজু আদিকাল থেকেই চলে আসছে। বিজু মানে আনন্দ আর হইহুল্লোড়। বিজু মানে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানো এবং একে অপরের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি করা।’

ফুল ভাসাতে এসেছেন কয়েকজন চাকমা কিশোরী ও তরুণী। আজ সকালে খাগড়াছড়ির খবং পড়িয়া এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

বাংলা বছরের শেষ দুই দিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন চাকমা সম্প্রদায় বিজু পালন করে। রোববার ফুল বিজু, ১৩ এপ্রিল মূল বিজু এবং ১৪ এপ্রিল নতুন বছর বা 'নু’অ বজর'। এছাড়া পহেলা বৈশাখের পরের দিনটি পালন করা হয় ‘গোজ্যেপোজ্যে দিন’ হিসেবে। উৎসবের প্রথম দিনে প্রার্থনা করার পাশাপাশি বাড়িঘর পরিষ্কার করে সাজানো হয়। দ্বিতীয় দিনে থাকে অতিথি আপ্যায়ন ও খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন। তৃতীয় দিনে হাঁস-মুরগি ও পশুপাখিদের খাবার দেওয়া হয় এবং বড়দের কাছ থেকে আশীর্বাদ নেওয়া হয়।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন