[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সিল-স্বাক্ষর জাল করে ওকালতনামা বিক্রি, দিনাজপুরে ২ জনের চাকরি গেল

প্রকাশঃ
অ+ অ-
জাল ওকালতনামার বিক্রির অভিযোগে দুই কর্মচারী বহিষ্কার। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে দিনাজপুর আইনজীবী সমিতির জরুরিসভার বৈঠক | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

সিল-স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া ওকালতনামা তৈরি ও বিক্রি করে দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির দুই কর্মচারী। অবশেষে তারা ধরা পড়েন। মঙ্গলবার বিকেলে সমিতির জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়—তাদের একজনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, অপরজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

চাকরিচ্যুত কর্মচারী হলেন মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি আইনজীবী সমিতিতে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত ছিলেন। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মনোয়ার হোসেন সমিতির প্রধান করণিক পদে কর্মরত ছিলেন।

জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে আইনজীবী সুমন সরকার সমিতির কার্যালয় থেকে তৌহিদ হোসেনের কাছে ৫০০ টাকা মূল্যের একটি ওকালতনামা কিনেছিলেন। এতে সমিতির পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমানের স্বাক্ষর ছিল। সুমন সরকার ও মিজানুর রহমান একসাথে ডেস্কে কাজ করেন। স্বাক্ষর দেখে সন্দেহ হলে সুমন সরকার মিজানুরের সামনে তা উপস্থাপন করেন। মিজানুর রহমান জানান, স্বাক্ষরটি তাঁর নয় এবং জাল ওকালতনামার বিষয়ে তিনি তৎক্ষণাৎ সমিতির সভাপতিকে লিখিত অভিযোগ করেন। সমিতির সভাপতি তৌহিদ হোসেনকে তলব করলে তিনি অপরাধ স্বীকার করেন। এভাবে আরও কয়েকজন আইনজীবী জাল ওকালতনামার প্রমাণ সমিতির কাছে হাজির করেন। বিকেলে সমিতির জরুরি সভায় সব অভিযোগ উত্থাপিত হয় এবং জাল ওকালতনামার বিষয়টি উঠে আসে।

দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ১৫ সদস্যের কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়। সমিতির অধীনে বর্তমানে ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। ৫০০ টাকা মূল্যের ওকালতনামা, ৩৫০ টাকা মূল্যের বেলবন্ড, ১৫ টাকা মূল্যের আসামি হাজিরা এবং ২০ টাকা মূল্যের ফিরিস্তি বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থই সমিতির আয়ের উৎস।

কয়েকজন আইনজীবী বলেন, প্রতিদিন সমিতির গড়ে আয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। এই অর্থ সমিতি পরিচালনা ও সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় হয়। কিন্তু গত কয়েক মাসে আয় কমে গড়ে ৬০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। আদালতে জাল ওকালতনামার ছড়াছড়িই তার বড় প্রমাণ। তাঁরা মনে করছেন, সমিতির অফিসের কিছু ব্যক্তির যোগসাজশে একটি চক্র গড়ে উঠেছে, যারা এই অনৈতিক কাজ করে আইনজীবীদের টাকা তছরুপ করছে। সদস্যরা আরও তদন্তের মাধ্যমে পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

দিনাজপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই জাল ওকালতনামার বিষয়ে অভিযোগ আসছিল। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে জরুরি সভায় দুজনকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে আরও তদন্ত করা হবে। যদি সমিতির কোনো পদে থাকা কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাদের ক্ষেত্রেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন