সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন
![]() |
| গত মঙ্গলবার ঢাকার আদালতে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী | ফাইল ছবি |
জুলাই আন্দোলনের সময় আশরাফুলকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জামিন দিয়েছেন আদালত। রোববার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জাকির হোসাইন এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আশরাফুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে জনসমক্ষে ছিলেন না শিরীন শারমিন। ৭ এপ্রিল ভোরে ধানমন্ডির ৮/এ সড়কের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সেদিন পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের আবেদন করা হয়েছিল। অন্যদিকে শিরীন শারমিনের পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। আদালত দুটি আবেদনই নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ চলছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। তিনি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এই ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১১৫-১২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আশরাফুল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরদিনই সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়া হলেও স্পিকারের পদ সঙ্গে সঙ্গে শূন্য হয় না। পরবর্তী স্পিকারের শপথ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থেকে যান। তবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন।
২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন শারমিন। তাঁকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। নবম সংসদের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর সেই জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হন তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদ। এরপর ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। তারপর থেকে তিন মেয়াদে তিনিই টানা স্পিকারের দায়িত্বে ছিলেন।

Comments
Comments