সার সংকটের শঙ্কা: মধ্যপ্রাচ্যের বদলে বিকল্প বাজার খুঁজছে সরকার
বিশ্বে সমুদ্রপথে সার পরিবহনের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ হয় ওমান উপসাগরের হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রণালিটি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে সার সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, জুন পর্যন্ত সারের মজুত আছে। তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে নতুন উৎস থেকে সার আনার প্রস্তুতি চলছে।
বিশ্বে সমুদ্রপথে সার পরিবহনের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ হয় ওমান উপসাগরের হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রণালিটি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে সার সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, জুন পর্যন্ত সারের মজুত আছে। তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে নতুন উৎস থেকে সার আনার প্রস্তুতি চলছে।
বিশ্বে সমুদ্রপথে সার পরিবহনের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ হয় ওমান উপসাগরের হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রণালিটি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে সার সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, জুন পর্যন্ত সারের মজুত আছে। তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে নতুন উৎস থেকে সার আনার প্রস্তুতি চলছে।
বিশ্বে সমুদ্রপথে সার পরিবহনের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ হয় ওমান উপসাগরের হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রণালিটি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে সার সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, জুন পর্যন্ত সারের মজুত আছে। তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে নতুন উৎস থেকে সার আনার প্রস্তুতি চলছে।
বিশ্বে সমুদ্রপথে সার পরিবহনের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ হয় ওমান উপসাগরের হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইরাকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রণালিটি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে সার সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, জুন পর্যন্ত সারের মজুত আছে। তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে নতুন উৎস থেকে সার আনার প্রস্তুতি চলছে।
শিল্প মন্ত্রণালয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে তিনটি নতুন উৎস থেকে সার আমদানির সম্ভাবনা যাচাইয়ের অনুরোধ করেছে। ১৬ মার্চ দেওয়া ওই চিঠির পর মালয়েশিয়া, ব্রুনেই ও ভিয়েতনামে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়েছে। ইতিবাচক সাড়া পেলে এই তিন দেশ থেকে সার আমদানি করা হবে। তবে কত পরিমাণ সার আনা হবে, সে বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় কোনো তথ্য দেয়নি। একই সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয় ব্রাজিল ও চীনের সঙ্গে সার আনার বিষয়ে যোগাযোগ শুরু করেছে।
কৃষিসচিব রফিকুল ই মোহামেদ জানিয়েছেন, ‘আমাদের মজুত এই অর্থবছর পর্যন্ত পর্যাপ্ত আছে।’ তিনি আরও বলেন, বিকল্প উৎস খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে। যেখান থেকে আনতে খরচ কম হবে, সেখান থেকে সার আনা হবে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ইউরিয়া সার আমদানি করে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) নন-ইউরিয়া সার, যেমন টিএসপি, এমওপি এবং ডিএপি, আমদানি করে।
বর্তমান মজুত দিয়ে এখন সার সংকট নেই। তবে সার আমদানির কাজ না হলে আমন ধানের উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে। আমন দেশের দ্বিতীয় প্রধান ধানের মৌসুম। এ বছর আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ মেট্রিক টন। জুলাই–আগস্ট থেকে আমনের বীজতলা প্রস্তুতের কাজ শুরু হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার ৬০ লাখ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হবে।
বিএডিসির তথ্য অনুযায়ী, টিএসপির মজুত আছে বর্তমানে ৩ লাখ ২২ হাজার টন, ডিএপির মজুত ৪ লাখ ৩৭ হাজার টন এবং এমওপির মজুত রয়েছে ৩ লাখ ১৮ হাজার টন।
বিসিআইসি জানাচ্ছে, দেশে ইউরিয়া সারের বার্ষিক চাহিদা ২৬ লাখ টন। চলতি অর্থবছর (২০২৫–২৬) এ পর্যন্ত ১৩ লাখ ১৪ হাজার ৩৮৮ টন আমদানি হয়েছে। বর্তমানে মজুত আছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন। সাধারণভাবে ৪ লাখ টন মজুতকে নিরাপদ ধরা হয়।
এর বাইরে আরও দুই লাখ টন ইউরিয়া সার আনার জন্য বিসিআইসি উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করেছে। সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের সঙ্গে সরকার থেকে সরকার ভিত্তিতে আরও তিন লাখ টন ইউরিয়া আনার বিষয়ে কথাবার্তা চলছে। তবে তা আসা নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার ওপর।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের নথি অনুযায়ী, এ বছরের মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত ইউরিয়া সারের চাহিদা ৪ লাখ ২৪ হাজার ২১৩ টন, টিএসপির চাহিদা ১০ লাখ ৭৭ হাজার টন, ডিএপির চাহিদা ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৩৪ টন এবং এমওপির চাহিদা ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬০০ টন।
বিএডিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে টিএসপির মজুত আছে ৩ লাখ ২২ হাজার টন, ডিএপির মজুত ৪ লাখ ৩৭ হাজার টন এবং এমওপির মজুত রয়েছে ৩ লাখ ১৮ হাজার টন।
কৃষিসচিব রফিকুল ই মোহামেদ বলেন, হরমুজ প্রণালি বাদ দিয়ে অন্য কোন পথে সার আনা যায়, সেটা নিয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যে মন্ত্রীর উদ্যোগে চীনের সার কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। পণ্যমূল্য আর পরিবহন—এ দুটো মিলে সারের দাম কম পড়বে, এমন উৎস থেকে সার আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উদাহরণ দিয়ে কৃষিসচিব বলেন, ‘যেমন ব্রাজিলের সার আছে। দাম কম, কিন্তু পরিবহন খরচ বেশি। আনতে গেলে সবমিলে খরচ বেশি পড়বে। সব বাজারের গাণিতিক বিশ্লেষণগুলো হচ্ছে। যে উৎস সাশ্রয় হবে, আমাদের জন্য সেখান থেকে সার আনব।’
কৃষিসচিব রফিকুল ই মোহামেদ জানান, ‘আমরা নরসিংদীর ঘোড়াশাল–পলাশ ইউরিয়া সার কারখানাটি চালু করতে জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, বিশেষ করে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।’
বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদী জেলার এই কারখানার দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৮০০ টন। বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ৯ লাখ ২৪ হাজার টন। দেশে মোট সাতটি সার কারখানা আছে। এর মধ্যে ছয়টি কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়। একটিতে টিএসপি সার উৎপাদন হয়। তবে গ্যাস সংকটের কারণে গত অর্থবছরে প্রায় সব কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা গত মার্চে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ইউরিয়া সারের দাম ১৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সংঘাত চললে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও আফ্রিকার দেশগুলোতে সারের সরবরাহের ঘাটতি হবে। এতে ফসল উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হবে এবং খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়বে।
বিএডিসির কর্মকর্তারা জানান, সার আমদানির পর কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সাধারণত কমপক্ষে ১৮০ দিন বা ছয় মাস সময় লাগে। তাই এখন থেকেই নতুন উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে, যাতে অক্টোবর থেকে বোরো মৌসুম শুরু হলেও কৃষক সারের ঘাটতির মুখে না পড়ে।

Comments
Comments