[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ক্যামেলিয়া চা-বাগানের লক্ষাধিক শ্রমিকের চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
শমশেরনগরের ফাঁড়ি কানিহাটি চা-বাগানে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১৫টি চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় এক লাখ মানুষ। হাসপাতালের কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চিকিৎসক ও নার্সরা চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ চা-শ্রমিকেরা উপজেলা ও জেলা হাসপাতালসহ অন্যান্য জায়গায় চিকিৎসার জন্য ভিড় করছেন।

গত ২৭ মার্চ ক্যামেলিয়া হাসপাতালে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঐশী রবিদাস নামে এক চা-শ্রমিক সন্তানের মৃত্যু হয়। সে সময় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ কয়েকজন শ্রমিক হাসপাতালের কর্মীদের আটকে রেখে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এই ঘটনার পর চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে দুই সপ্তাহ ধরে অসুস্থ চা-শ্রমিকেরা সেখানে কোনো সেবা পাচ্ছেন না।

ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতাল খোলা আছে। এর দেখাশোনার জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করছেন। তবে নিরাপত্তাহীনতার কারণে চিকিৎসকেরা না থাকায় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রধান কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিকনেতা রামভজন কৈরী বলেন, ‘কয়েকজন উগ্র ব্যক্তির আচরণের কারণে পুরো চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠী বিপাকে পড়েছে। হাসপাতালে আবার চিকিৎসাসেবা চালু করার জন্য আমরা কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। তিনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। এই হাসপাতালে ১৫টি চা-বাগানের প্রায় এক লাখের বেশি মানুষ সেবা নিয়ে থাকেন।’

এ বিষয়ে ক্যামেলিয়া হাসপাতালের পরিচালক চিকিৎসক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শমশেরনগর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপমহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আসলে হাসপাতালটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। পুরো বিষয়টি ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ ইংল্যান্ড থেকে পর্যবেক্ষণ করছে। আমরাও চাই হাসপাতালে আবার সেবা চালু হোক।’

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘চা-শ্রমিক নেতারা হাসপাতালটি আবার চালু করার জন্য আমার কাছে এসেছিলেন। আমি বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে শমশেরনগরের শাখা কানিহাটি চা-বাগানে ৫০ শয্যার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। হাসপাতালটি চালু হওয়ার পর থেকে ডানকান ব্রাদার্সের ১৫টি চা-বাগানের লক্ষাধিক চা-শ্রমিক অস্ত্রোপচারসহ আধুনিক সব চিকিৎসা সুবিধা পেয়ে আসছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবসহ নানা সমস্যায় কয়েক বছর ধরে অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকলেও প্রতিদিন বিভিন্ন চা-বাগান থেকে রোগীরা এই হাসপাতালে এসে সেবা নেন। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন