[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

রংপুরে ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে শিক্ষকের মৃত্যু

প্রকাশঃ
অ+ অ-
শিক্ষক মেহেদী হাসান | ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে একটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে গিয়ে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মারা গেছেন। শনিবার বিকেলে রংপুর নগরের মেসার্স সুরমা ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টারে এই ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া মেহেদী হাসান (৩৩) রংপুর সদর উপজেলার বালাচড়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি রংপুর নগরের নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়ার বাসিন্দা। মেহেদী হাসানের বাবা বেগম রোকেয়া কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ আবদুল মতিন জানান, তাঁর ছেলে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাহবুব হোসেন বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।

সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পর্যটন মোটেলের বিপরীতে সুরমা ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল নিয়ে যান মেহেদী। তিনি তেল নেওয়ার জন্য লাইনে না দাঁড়িয়ে পাম্পের কর্মচারী মজনু মিয়ার সঙ্গে কথা বলছিলেন। কথা শেষ করে কিছুটা দূরে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ তিনি মাটিতে ঢলে পড়েন।

তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুরমা ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টারের ব্যবস্থাপক আরাফাত হোসেন বলেন, ‘বিকেল ৪টার দিকে মাস্ক পরা একজন ব্যক্তি আমাদের কর্মচারীর কাছে কিছু একটা জিজ্ঞেস করছিলেন। হয়তো তেলের বিষয়ে জানতে চাচ্ছিলেন। ঠিক ওই সময় আমার ফোনে একটি কল আসায় আমি সেদিকে তাকাই। পরক্ষণেই বাইরে তাকিয়ে দেখি, ওই লোক হঠাৎ মাটিতে ঢলে পড়লেন।’

ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা জানান, মেহেদী হাসানের মৃত্যুর পর রাত আটটার দিকে তাঁর এক স্বজন এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান। ঘটনার সময় ফিলিং স্টেশনে তদারকির দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক সাদ্দাম সরকার জানান, মেহেদী হাসান হঠাৎ পড়ে যাওয়ার পর ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে ইজিবাইকে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।

মেহেদী হাসান রংপুর জিলা স্কুলের ২০১০ ব্যাচ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও বন্ধুদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বালাচড়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আফরোজা পারভীন বলেন, ‘মেহেদী বিকেল চারটার দিকে স্কুল থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিছুক্ষণ পরই তাঁর নম্বর থেকে একজন ফোন করে জানান যে, মেহেদী সম্ভবত হার্ট অ্যাটাক করেছেন। খবর পেয়ে দ্রুত আমার স্বামী ও ছেলে ঘটনাস্থলে যান। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে ইসিজি করার পর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। অত্যন্ত নিষ্ঠাবান এই শিক্ষকের এভাবে চলে যাওয়া খুবই দুঃখজনক।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন