মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এলেন রামুর অপহৃত কৃষক
![]() |
| রিদুয়ানুল করিম | ছবি: সংগৃহীত |
অপহরণের দুই দিন পর ঘরে ফিরেছেন কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের জাউচপাড়ার কৃষক রিদুয়ানুল করিম (৩৮)। তিনি জানান, আট লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পর অপহরণকারীরা তাঁকে ছেড়ে দিয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তিনি বাড়ি ফেরেন। এ সময় তাঁর স্বজনদের মধ্যে কান্নার পরিবেশ তৈরি হয়।
এর আগে রোববার রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের লতাবনিয়া উঠুনি এলাকা থেকে অস্ত্রধারীরা তাঁকে অপহরণ করে মিয়ানমার সীমান্তের কাছের জঙ্গলে নিয়ে যায়। পরে মুঠোফোনে তাঁর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
রিদুয়ানুল করিম নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের লংগদুরমুখ এলাকায় দুই একর জমিতে তামাক ও সবজির চাষ করেন। সেখানে তাঁর একটি গরুর খামারও আছে। প্রতিদিনের মতো রোববার রাতে কাজ শেষে রামুর বাড়িতে ফেরার পথে তাঁকে অপহরণ করা হয়।
বুধবার সকালে বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রিদুয়ানুল করিম। তিনি বলেন, ৯ জন অস্ত্রধারী যুবক তাঁকে অস্ত্র দেখিয়ে অপহরণ করে। তাদের মধ্যে চারজন পাহাড়ি এবং পাঁচজন বাঙালি। অপহরণের পর তাঁকে পাহাড়ের একটি আস্তানায় নিয়ে হাত-পা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এরপর মারধর করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে দর–কষাকষির মাধ্যমে আট লাখ টাকায় মুক্তিপণ ঠিক হয়।
রিদুয়ানুল করিম জানান, মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করতে প্রথমে তাঁর পরিবার খামারের গরু বিক্রি করার চেষ্টা করে, কিন্তু তাৎক্ষণিক ক্রেতা পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর স্ত্রী ও ভাবির স্বর্ণালংকার বিক্রি করে আট লাখ টাকা জোগাড় করা হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ভগ্নিপতি ছুরুত আলম ওই টাকা অপহরণকারীদের হাতে তুলে দেন। এরপর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপহরণকারীরা বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করেছিল। রিদুয়ানুল করিম জানান, তিনি কয়েকজন অপহরণকারীর পরিচয় চিনতে পেরেছেন এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল বাতেন মৃধা বলেন, অপহৃত কৃষক রিদুয়ানুল করিম বাড়িতে ফিরেছেন—এ তথ্য তিনি জেনেছেন। তবে মুক্তিপণ দেওয়ার বিষয়টি পুলিশের জানা নেই। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। রিদুয়ানুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

Comments
Comments