[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

নতুন সরকারের শুরুতেই আর্থিক সংকট, বাড়ছে ঋণের বোঝা

প্রকাশঃ
অ+ অ-

চাপে থাকা অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব

আট (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) মাসে এনবিআর রাজস্ব

৩২৬৪০২
২৫৪৩৩০

পুরো অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া

১৩৪০০০
১৫৬০৫১
হিসাব-কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা আদায়

চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি

৪২০০০
৮১০০০
  • উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে টাকা ছাপিয়ে নিয়েছে ঋণ ৩২ হাজার কোটি টাকা
  • চাপ সামলাতে বিদেশি উৎস থেকে ৩১৫ কোটি ডলার ঋণের খোঁজে সরকার

আর্থিক চাপ সামলানোর প্রধান দুটি উপায় হলো রাজস্ব আয় বাড়ানো ও ভর্তুকি কমানো। রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে অবশ্যই কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে।

ড. জাহিদ হোসেন

সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস

দীর্ঘদিন চাপে থাকা অর্থনীতি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে নতুন করে সংকটে পড়েছে। এমনিতেই সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে। যা আয় হচ্ছে, তার পুরোটাই চলে যাচ্ছে নিয়মিত খরচ মেটাতে। এর একটি বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে ঋণের সুদ পরিশোধে। এদিকে বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণে শুধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেই গত মার্চ থেকে আগামী জুন পর্যন্ত সরকারের বাড়তি খরচ হবে ৩৯ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে দায়িত্ব নিয়েই আর্থিক সংকটে পড়েছে সরকার। খরচ মেটাতে এখন বেশি বেশি ঋণ করতে হচ্ছে। পুরো অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এরই মধ্যে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। এখন বিদেশি উৎস থেকে ৩১৫ কোটি ডলার ঋণের চেষ্টা চলছে।

আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে সুদের হার কমাবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে– এমন প্রত্যাশা ছিল। সুদের হার কমানোর জন্য একটি বৈঠকও ডেকেছিলেন নতুন গভর্নর। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠক আর হয়নি। আপাতত যুদ্ধবিরতি চললেও খুব দ্রুত সংকটের সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ফলে সুদের হার কমছে না।

প্রবাসী আয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। গত এক মাস ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর বাজার থেকে ডলার কিনছে না। এতে ব্যাংকগুলোর কাছে এখন ১০০ কোটি ডলারের মতো বৈদেশিক মুদ্রার নগদ প্রবাহ রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে ডলারের দাম সামান্য বেড়ে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় উঠেছে। এই দামেই বাজার এখন স্থিতিশীল। আর বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চিত বা রিজার্ভ রয়েছে ৩৪ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পিছিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় শুল্ক-কর আদায় কম হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে এনবিআর থেকে। এনবিআর বহির্ভূত রাজস্ব সংগ্রহেও আশানুরূপ অগ্রগতি নেই।

বর্তমানে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে ৯ হাজার ৩৪৬ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা। বাকি ঋণ নেওয়া হয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্রে রয়েছে তিন লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংকসহ বিভিন্ন উৎসে রয়েছে প্রায় আট লাখ কোটি টাকা। বিশাল অংকের এই ঋণের বিপরীতে সুদ দিতেই সরকারের আয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের তিন মাস বাকি থাকতেই পুরো অর্থবছরের জন্য ঠিক করা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। এবার ব্যাংক থেকে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত সরকার ঋণ নিয়েছে এক লাখ ছয় হাজার ৫১ কোটি টাকা। এতেও সরকারের প্রয়োজন না মেটায় বিশেষ নিলাম ডেকে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে সরকারের ঋণের চাহিদা মেটাতে সরকারি ঋণপত্র বা ট্রেজারি বিল ও বন্ডের নিয়মিত নিলামের বাইরেও বিশেষ নিলাম ডাকতে হচ্ছে। বিশেষ নিলাম ডেকে ১ এপ্রিল পাঁচ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে সরকার। এরপর ৮ এপ্রিল বিশেষ নিলামের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে আরও পাঁচ হাজার কোটি টাকা। ফলে এবার শেষ পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ অনেক বেড়ে যেতে পারে। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার এক লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল। তবে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৯৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়। শেষ পর্যন্ত সরকার নিয়েছিল মাত্র ৭২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত নেওয়া ঋণের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরবরাহ করেছে ৩২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার অর্থ হলো নতুন টাকা ছাপানো, যা সাধারণত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বা মূল্যস্ফীতিকে বাড়িয়ে দেয়। সব মিলিয়ে গত মার্চ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরকারের ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার ৯ মাসে নিয়েছে ৭৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। এতে ব্যাংকগুলোতে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি পৌঁছেছে পাঁচ লাখ ২৬ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকায়। চলতি অর্থবছরের শুরুর দিকে সরকারের ঋণের চাহিদা কম ছিল। গত অক্টোবর পর্যন্ত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ঋণ নেওয়ার চেয়ে পরিশোধই বেশি করেছিল ৫০৩ কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, অনেক আগে থেকেই সরকার চাপে রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আর্থিক চাপ সামলানোর প্রধান দুটি উপায় হলো রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং ভর্তুকি কমানো। রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে অবশ্যই কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে। কর প্রশাসন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আলাদা করতেই হবে। তা না করে স্বার্থের দ্বন্দ্বের সুযোগ রেখে রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব নয়। একই সঙ্গে কর ছাড়ের সুযোগ কমাতে হবে।

ড. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম প্রতি মাসে বাজারদরের সঙ্গে মেলানোর কথা। অথচ এপ্রিলে দেখা গেল সরকার দাম না কমিয়ে আগেরটাই রেখে দিয়েছে। প্রতিবেশী ভারতসহ সব দেশ জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। বাংলাদেশে দাম না বাড়ানোয় অনেক জ্বালানি ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে শুধু ব্যয় কমানো কোনো সমাধান নয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর সুযোগও নেই। কারণ বিশ্ববাজারে সব ধরনের পণ্যের পাশাপাশি পরিবহনসহ অন্যান্য সব খরচ বাড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ চার মাসে এ খাতে বাড়তি প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকার সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হবে। চলতি বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মোট বরাদ্দ রয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকা।

এর বাইরে কৃষি ও সারের পেছনেও সরকারি খরচ বাড়তে পারে। পাশাপাশি নতুন সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ ও পরিবার কার্ড করেছে এবং কৃষি কার্ড চালুর পর্যায়ে রয়েছে। দুর্বল পাঁচটি ব্যাংক মিলিয়ে একটি নতুন ইসলামী ব্যাংক গঠনের জন্যও চলতি বাজেট থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই বাড়তি ব্যয়ের চাপ কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে সরকার।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে সহায়তার জন্য ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে গেছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র যুক্ত হওয়ায় আর্থিক চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরের বাকি ১০ মাসের জন্য বাড়তি ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

চলতি বাজেটে গ্যাস (মূলত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি) খাতে বরাদ্দ রয়েছে ছয় হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বিশ্ববাজারে এই গ্যাসের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় শেষ চার মাসে এ খাতে বাড়তি প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে মিলিয়ে জ্বালানি তেলের দাম ঠিক করায় চলতি বাজেটে এ খাতে কোনো বরাদ্দের প্রয়োজন ছিল না। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে দাম না বাড়ালে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার বাড়তি খরচের বোঝা তৈরি হবে।

জ্বালানি পণ্য আমদানিনির্ভর হওয়ায় এই বাড়তি ৩৯ হাজার কোটি টাকার পুরোটাই বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চিত বা রিজার্ভ থেকে এই অর্থ ব্যয় করতে চায় না সরকার। তাই আগামী জুন মাসের মধ্যে ৩১৫ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এই অর্থ জোগাড়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার সহায়তা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কাছে ইতিমধ্যে ২৫ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে এবং বিশ্বব্যাংক ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের কাছেও সহায়তা চাওয়া হবে।

তবে এসব ক্ষেত্রে আশানুরূপ কোনো প্রতিশ্রুতি এখনো পাওয়া যায়নি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়া গেলেও চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৮০ কোটি ডলার, যা সংশোধিত বাজেটে কমিয়ে ১২০ কোটি ডলারে নামানো হয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের চলমান কর্মসূচির আওতায় জুন মাসের আগেই দুই কিস্তির অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তির প্রায় ১৩০ কোটি ডলার জুন মাসের মধ্যে পাওয়ার কথা ছিল। এই পরিস্থিতিতে সংস্থাটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি ঢাকা সফর করে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এখন জুন মাসের বদলে জুলাই মাসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষ করে অর্থ ছাড় করতে চায়। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে দেওয়া শর্তগুলো কতটা পূরণ হচ্ছে– তা দেখেই সিদ্ধান্ত নিতে চায় সংস্থাটি।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে অংশ নিতে শুক্রবার ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা দেবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল। সেখানে তাঁরা জুন মাসের মধ্যেই দুই কিস্তির অর্থ ছাড় ও বাড়তি অর্থায়নের জন্য অনুরোধ জানাবেন। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্ত অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারি সহায়তা বা ভর্তুকি কমাতে হবে। কিন্তু বাস্তবে এ খাতে ব্যয় বাড়ছে। ফলে খরচ কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার।

আশানুরূপ রাজস্ব আদায় না হওয়ায় খরচ মেটাতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হচ্ছে সরকারকে। ফলে বাজেটের একক বৃহত্তম খাত হিসেবে দাঁড়িয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মোট ব্যয়ের প্রায় ২৬ শতাংশ বা ৬৬ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে। এর মধ্যে দেশি ঋণের সুদে ৫৬ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদে ৯ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে সুদ বাবদ ব্যয় ছিল ৬৪ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা।

বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে সাশ্রয়ী হওয়ার অংশ হিসেবে সংশোধিত বাজেটে গাড়ি কেনা, সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমণ ও কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার সুদমুক্ত ঋণ বন্ধসহ বিভিন্ন খাতে খরচ কমানো হয়েছে। ৫ এপ্রিল এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। একই দিন অন্য একটি আদেশের মাধ্যমে ২ এপ্রিল মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়ির মাসিক জ্বালানি খরচ ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির ও অনিশ্চিত। নির্বাচনের পর বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ার কথা থাকলেও যুদ্ধের কারণে বাস্তবতা বদলে গেছে। এই অবস্থায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনা করে স্থিতিশীলতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি ব্যয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার বিকল্প নেই। এ জন্য নিয়মিত খরচের পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের অযৌক্তিক ব্যয়গুলো খতিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের বাড়তি চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো থেকে অর্থ পেতে জোর চেষ্টা চালাতে হবে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন