[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ময়মনসিংহে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনেই হাসপাতালে ২১ শিশু

প্রকাশঃ
অ+ অ-
হামের লক্ষণ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবারের ছবি | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের লক্ষণ নিয়ে ২১টি শিশু ভর্তি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তাদের ভর্তি করা হয়। তাদের হাসপাতালের হাম পৃথকীকরণ ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ মেডিকেলে গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১৪৩টি শিশু। এর মধ্যে মারা গেছে ৫ শিশু। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৪টি শিশু। অন্যদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য গত সোমবার হাসপাতালের আটতলার কেবিন এলাকায় ৬৪ শয্যার পৃথকীকরণ ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে তিনটি চিকিৎসক দল গঠন করে চিকিৎসা চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২১টি শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মরত চিকিৎসক মো. গোলাম মোত্তাকীন মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, ১৭ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ১২২টি শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে বাংলাদেশের জাতীয় পোলিও ও হাম পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ৮৫টি নমুনার পরীক্ষার ফলাফলে ৪৭টি শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়। শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে ময়মনসিংহ জেলার শিশু রয়েছে ৩৯টি, যা মোট শনাক্তের ৮২ শতাংশ। এ ছাড়া নেত্রকোনার ২টি, জামালপুরের ৩টি, শেরপুরের ১টি, কিশোরগঞ্জের ১টি এবং লালমনিরহাটের ১টি শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়। হাম শনাক্ত হওয়া শিশুদের মধ্যে ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী রয়েছে ৩৪ শতাংশ এবং ৬ মাসের কম বয়সী রয়েছে ১৭ শতাংশ।

জেলার সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সল আহমেদ জানান, জনসংখ্যার তুলনায় ময়মনসিংহে আক্রান্তের সংখ্যা খুব বেশি নয়। হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮০ শতাংশই ৯ মাসের নিচে বয়সী। তাদের হামের টিকা নেওয়ার সময় এখনো হয়নি। বাকি শিশুদের মধ্যে ১০ শতাংশ এক ডোজ টিকা পেয়েছে এবং বাকি ১০ শতাংশ দুই ডোজ টিকা পেয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন বলেন, গত বছর থেকেই বিভিন্ন ধরনের টিকার সংকট রয়েছে। বর্তমানে হাম ও বিসিজি ছাড়া অন্য কোনো টিকা নেই। অন্য কোনো টিকাও মজুত নেই। সেগুলোর চাহিদা পাঠানো হয়েছে। উপজেলায় কোনো টিকা আছে, কোনো টিকা নেই—এমন পরিস্থিতি রয়েছে। গত বছর দীর্ঘ সময় ধরে হামের টিকা ছিল না। এ ছাড়া স্বাস্থ্য সহকারীরা কয়েক মাস কর্মবিরতি পালন করায় টিকা কার্যক্রম চালু ছিল না। ওই সময় মানুষ টিকা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। গত বছরের সেই পরিস্থিতির প্রভাবেই বর্তমান অবস্থা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন