ঈশ্বরদীতে ওসির বিরুদ্ধে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে লুটপাটের অভিযোগ, তদন্ত শুরু
| পাবনার পুলিশ সুপারের কাছে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
পাবনার ঈশ্বরদীতে এক আসামিকে খুঁজতে গিয়ে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে নগদ টাকা, সোনার গয়না ও মুঠোফোন নিয়ে গেছেন পুলিশ সদস্যরা। এ ঘটনায় পাবনার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আসাদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি বেগম।
ঘটনাটি ঘটেছে ঈশ্বরদী উপজেলা সদরের নূরমহল্লা বস্তিপাড়া এলাকায়। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মো. মমিনুজ্জামান ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বরে ঈশ্বরদী থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ আসাদুল ইসলাম সপরিবারে নাটোরের লালপুরে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যান। লিপি বেগম জানান, ২৫ মার্চ দুপুরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে একদল পুলিশ সদস্য তাঁদের বাড়িতে যান। প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, ঘরে কেউ না থাকায় পুলিশ তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে।
লিপি বেগম বলেন, আমরা বাড়ি ফিরে দেখি সব তছনছ করা। বিছানার নিচে রাখা টাকা, আমার মেয়ের কানের দুল এবং ঘরের দুটি দামি মুঠোফোন—কিছুই নেই। তল্লাশির নামে পুলিশ আমাদের সহায়-সম্বল লুট করে নিয়ে গেছে।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুজ্জামানের বিরুদ্ধে এলাকায় আরও নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রহিমপুর এলাকার এক যুবক জানান, মামলা করতে গেলে বা আইনি সেবা চাইলে শুরুতেই মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন তিনি।
সাধারণ মানুষ তাঁর কাছে গেলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পায় না বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ অর্থের বিনিময়ে তিনি প্রভাবশালী ও অপরাধীদের মদদ দিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসার পর থেকে এলাকায় মাদক ও জুয়ার কারবারিদের দাপট বেড়েছে। তিনি অবৈধ টাকা নিয়ে অপরাধীদের সুযোগ করে দিচ্ছেন, আর আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন। পুলিশের এমন আচরণে আমরা আতঙ্কিত।
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, আইন সবার জন্য সমান হওয়ার কথা থাকলেও এখানে টাকা ছাড়া আইন চলে না। তিনি সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম করছেন, কিন্তু অপরাধীদের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা প্রকাশ্য।
এক তরুণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, থানা এখন ব্যবসার জায়গায় পরিণত হয়েছে। মাদক কারবারিরা পুলিশের চোখের সামনেই দাপটের সঙ্গে কারবার চালাচ্ছে, অথচ তাদের ধরা হচ্ছে না। উল্টো কোনো সাধারণ মানুষ অভিযোগ নিয়ে গেলে হাজার হাজার টাকা দাবি করা হয়।
তবে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুজ্জামান।
এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন, আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশি নথিতে দেখা যায়, মো. মমিনুজ্জামান ২০১১ সালে উপপরিদর্শক পদে পুলিশে যোগ দেন। গত বছরের শেষ দিকে তিনি ঈশ্বরদী থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব নেন।
Comments
Comments