[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

জুলাইয়ে বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের চুল্লি | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে জ্বালানি ভরার কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এর আগে ৭ এপ্রিল জ্বালানি ভরার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করেছিল।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ৭ এপ্রিল জ্বালানি ভরা শুরুর প্রস্তুতি থাকলেও সময়মতো কাজ শুরুর অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি। ফলে আগের সূচি অনুযায়ী কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন তারিখের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করছে। ছাড়পত্র পাওয়ার পরই নতুন সময়সূচি ঠিক করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রুশ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ৭ এপ্রিলের তারিখটি চূড়ান্ত করেছিল। লক্ষ্য ছিল, জুলাইয়ের মধ্যে কেন্দ্রটি থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হবে। তবে জ্বালানি ভরায় দেরি হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই সময়সীমাও পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি ভরার প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এর দুই মাস পর শুরু হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ধাপ। সব মিলিয়ে জ্বালানি ভরা থেকে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে ১০ থেকে ১১ মাস সময় প্রয়োজন।

অবশ্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তাদের দাবি, ৭ এপ্রিল সম্ভব না হলেও এই মাসের শেষ নাগাদ জ্বালানি ভরা শুরু করা যাবে। ইতিমধ্যে নির্মাণকাজ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষ হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য প্রচার কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ জানান, গত মাসেই ১ নম্বর ইউনিটের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিরাপত্তার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হলেই কেবল কাজ শুরুর অনুমতি দেবে। তবে এই অনুমতি দেওয়ার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান বর্তমানে রূপপুর এলাকায় পর্যালোচনার কাজে ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বর্তমানে ১ নম্বর ইউনিটের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ২ নম্বর ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের প্রায় ৮১ শতাংশ অর্থ ইতিমধ্যে ব্যয় হয়েছে। শুরুতে ২০২২ সালে কেন্দ্রটি চালুর কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে যায়। পরে দুই দেশের সম্মতিতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। তবে ১ নম্বর ইউনিটের মূল কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো প্রকল্প শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ফের রূপপুরে জ্বালানি লোডিং পেছাচ্ছে
Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন