বাবার বাড়িতে খুন হলেন গৃহবধূ
![]() |
| মাগুরার শ্রীপুরে ফসলের খেত থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে উপজেলার বড় উদাস গ্রামে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
মাগুরার শ্রীপুরে ফসলের খেত থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে উপজেলার বড় উদাস গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামীকে আটক করা হয়েছে।
সন্ধ্যায় পুলিশ জানায়, পারিবারিক বিরোধের কারণে ওই ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
নিহত গৃহবধূর নাম লিমা খাতুন (২৪)। তিনি শ্রীপুর উপজেলার বড় উদাসপুর গ্রামের হাই জোয়ার্দারের মেয়ে। তিনি বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। তাঁর স্বামী সুজন শেখের (২৫) বাড়ি পাশের ঝিনাইদহের হাট গোপালপুর গ্রামে। তাঁদের দুটি সন্তান আছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বড় উদাস গ্রামের কৃষক জামাল শেখ নিজের জমিতে কাজ করার সময় এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিবস্ত্র অবস্থায় মরদেহটির গলায় রশি প্যাঁচানো ছিল। খবর পেয়ে হাই জোয়ার্দার এসে তাঁর মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, স্বামী সুজন শেখ স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়েই শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন। ৩০ মার্চ লিমা বাবার বাড়ি বড় উদাস গ্রামে বেড়াতে আসেন। পরদিন সন্ধ্যায় সুজন ফোন করে কৌশলে তাঁকে নির্জন স্থানে ডেকে নেন।
সুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রায় সাত বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেন সুজন ও লিমা। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো ছিল না এবং পারিবারিক অশান্তি বাড়ছিল। এই বিরোধের জেরেই সুজন তাঁর স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন।
পুলিশ সুপার জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁকে আদালতে পাঠানোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Comments
Comments