[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

তেল ফুরিয়ে থেমে ছিল বাস, রেললাইনে বসে থাকা ৫ যাত্রীর প্রাণ গেল

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ট্রেনে কাটা পড়ে পাঁচজন নিহত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে স্বজনদের আহাজারি। শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত পাঁচজন একটি বাসের যাত্রী ছিলেন। তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বাসটি সেখানে থেমে ছিল। তখন যাত্রীদের অনেকেই বাস থেকে নেমে আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিলেন। কেউ কেউ পাশের রেললাইনে চলে যান। এ সময় ট্রেন চলে আসায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বাসের যাত্রী, প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ের সূত্রে দুর্ঘটনার এই বর্ণনা পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাত আটটার দিকে কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত পাঁচজন হলেন গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার পূরাব নিজপাগা গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস (৩৫), তাঁর ছেলে নিরব (১২), নার্গিসের বড় ছেলের শাশুড়ি দোলা (৩৫), একই এলাকার রাইজেল মিয়ার ছেলে সুলতান (৩৩) এবং আবদুর রশিদের মেয়ে রিফা (২৩)।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটির যাত্রী মায়া (৩০) নামের এক নারীকে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, সকাল ১০টার দিকে সাদুল্যাপুর থেকে বাসটি ছেড়ে আসে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে কালিহাতীর ধলাটেংগরে এসে বাসের তেল শেষ হয়ে যায়। তখন বাসটি সেখানে থামিয়ে রেখে তেল আনতে যান বাসের কর্মীরা। এ সময় যাত্রীরা বাস থেকে নেমে আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিলেন। কেউ কেউ পাশের রেললাইনে উঠে যান। হঠাৎ ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী একটি ট্রেন চলে এলে পাঁচজনই ঘটনাস্থলে নিহত হন।

টাঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশন ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, কালিহাতীর ধলাটেংগর এলাকায় ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস থেমে ছিল। এ সময় বাসের কয়েকজন যাত্রী নেমে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশের রেললাইনে বসেছিলেন। তখন সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলে এলে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে পাঁচজন নিহত হন। রাত ১০টা পর্যন্ত লাশ ঘটনাস্থলেই ছিল।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, দুর্ঘটনাস্থলে সড়ক ও রেললাইন পাশাপাশি রয়েছে। বাসটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে থামানো হয়েছিল। এ সময় বাসের যাত্রীরা পাশের রেললাইনে বসে ছিলেন। এর মধ্যে ট্রেনের চালক হর্ন দিয়েছিলেন। বেশির ভাগ মানুষই রেললাইন থেকে সরে যান। নিহত ব্যক্তিরা সময়মতো লাইন থেকে সরে যেতে পারেননি।

রেলের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন রাতে বলেন, ঘটনাস্থলটি স্টেশন থেকে দূরে। তাই কেউ লাইনে বসে আছে কি না বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আছে কি না, তা দেখভালের সুযোগ থাকে না। ব্রিটিশ আমল থেকেই রেললাইনে অবস্থান নিষিদ্ধ। এখন অসতর্কতার কারণে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ঈদের ছুটির মধ্যে ২১ মার্চ দিবাগত রাতে কুমিল্লায় বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে বাস ডুবে ২৬ জন নিহত হন। পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কালাকচুয়া এলাকায় বাসের ধাক্কায় ব্যক্তিগত গাড়ির চালকসহ ৫ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ৪ জনই একই পরিবারের।

ঈদের সময় দেশে সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যায়। এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে গত ১০ দিনে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ থেকে ২৬ মার্চ ভোর পর্যন্ত দেশে ৩৪২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত বছর ঈদুল ফিতরের ছুটির সময় ১১ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৯ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই হিসাবে গতবারের তুলনায় এবার সড়কে মৃত্যু বেশি।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষও সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের তথ্য প্রকাশ করে। তাদের হিসাবে, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ৭ দিনে ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ২১৭ জন। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন