পীরগঞ্জে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল দশা, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত
![]() |
| চৈত্রকোল ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন যেন নামেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় পরিত্যক্ত কোনো গোয়ালঘর। ঝুঁকিপূর্ণ আধা পাকা ভবন আর তীব্র জনবল-সংকটে এখানকার চিকিৎসাসেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। কয়েক হাজার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এই কেন্দ্রটি বর্তমানে অবহেলা ও অনিয়মের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় আধা পাকা ভবনটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। দেওয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে, চারপাশও অপরিচ্ছন্ন। নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। কেন্দ্রের বারান্দা ও আশপাশে গরু-ছাগল বেঁধে রাখা এবং কাঠ জমা করে রাখার দৃশ্যও চোখে পড়ে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এমন পরিবেশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
চৈত্রকোল গ্রামের বাসিন্দা বুলু মিয়া বলেন, ‘অসুস্থ হলে আগে এই কেন্দ্রেই আসতাম। কিন্তু এখন এখানে চিকিৎসক নেই। অনেক সময় ওষুধও পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে দূরের হাসপাতালে যেতে হয়।’ স্থানীয় আরেক বাসিন্দা ফিলিপ লাকড়া বলেন, মাতৃসেবা বা জরুরি চিকিৎসার জন্য এই কেন্দ্রটি খুবই প্রয়োজন ছিল। কিন্তু লোকবল না থাকায় সাধারণ মানুষ সেবা পাচ্ছেন না, বরং ভোগান্তিতে পড়ছেন।
নিয়ম অনুযায়ী, এখানে একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন উপসহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন ধাত্রী (মিডওয়াইফ), একজন ওষুধ সরবরাহকারী (ফার্মাসিস্ট) ও একজন অফিস সহায়ক থাকার কথা। অথচ বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন ওষুধ সরবরাহকারী। জনবল-সংকটের কারণে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম প্রায় বন্ধের মুখে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগী সেবা না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন।
উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের একমাত্র ওষুধ সরবরাহকারী সোহেল রানা বলেন, জনবল-সংকট ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে সেবা দেওয়া ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সমস্যা সম্পর্কে আমরা জানি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

Comments
Comments