[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

জ্বালানি সংকটে পুলিশের টহল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা, বাড়তে পারে অপরাধ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
Bangladesh Police Logo
যানবাহনের ধরন সংখ্যা
পাজেরো, প্রাইভেট কার ও পিকআপ ৫,৪৭৮
মোটরসাইকেল ৬,৪৪৫
মোট ১১,৯২৩
সূত্র : পুলিশ সদর দপ্তর

জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি সংকটে পুলিশের টহল কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। আর এই সুযোগে ভাসমান অপরাধীদের তৎপরতা বাড়তে পারে বলে মনে করেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের ১১ হাজার ৯২৩টি যানবাহন রয়েছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ৬ হাজার ৪৪৫টি। জিপ, ব্যক্তিগত গাড়ি, পিকআপ ও দুই সারির আসন বিশিষ্ট পিকআপ ভ্যান রয়েছে ৫ হাজার ৪৭৮টি। এসব যানবাহনের মধ্যে টহল কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় দুই সারির আসন বিশিষ্ট পিকআপ ভ্যান। এর বাইরে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যবহার করেন বিভিন্ন শ্রেণির বিলাসবহুল জিপ ও সাধারণ জিপ। পুলিশের এসব যানবাহনের জন্য সরকারিভাবে জ্বালানি তেল বরাদ্দ থাকে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের বেশ কিছু স্থাপনা ও যানবাহন জনরোষের শিকার হয়। বর্তমানে বাহিনীতে প্রায় সাড়ে চার হাজার যানবাহনের ঘাটতি রয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে। বন্ধ করে দেওয়া হয় হরমুজ প্রণালি। সংঘাত শুরুর পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম ১৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালানোয় উৎপাদনেও বিঘ্ন ঘটছে। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সাইপ্রাস, আজারবাইজান ও তুরস্ক পর্যন্ত পৌঁছেছে। এতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বড় অর্থনীতির দেশগুলো মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তাও দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এরই মধ্যে দেশের জ্বালানি খাতে স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে। মজুত শেষ হয়ে আসার শঙ্কা থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল বিক্রির নির্দেশনা জারি করেছে বিপিসি।

জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব শুধু সাধারণ মানুষের ওপরই নয়, পড়তে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও। একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, দেশের প্রতিটি থানা তাদের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় নিয়মিত টহল দিয়ে থাকে। সাধারণত প্রতিটি থানা থেকে প্রতিদিন তিন-চারটি গাড়ি এই কাজে যুক্ত থাকে। জ্বালানি তেলের সংকট হলে এই কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে। টহল কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই অপরাধীরা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ভাসমান অপরাধীরা সুযোগ নিতে পারে। এতে সড়ক-মহাসড়কে ডাকাতিসহ নানা অপরাধ এবং আসন্ন ঈদযাত্রায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

অপরাধ বিশ্লেষকরা জানান, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়ে এবং তাদের উপস্থিতি আগের চেয়ে কমে যায়। এই সুযোগে নানা শ্রেণির অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে পুলিশকে কিছুটা সক্রিয় করা গেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটে পুলিশের টহল কমে গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণের মতো অপরাধ অনেক বেড়ে যেতে পারে। এসব নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টহলের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাসমান অপরাধী দমন করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে। আমরা দেখেছি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় অনেক পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন যুদ্ধের কারণে তেল আমদানিতে বাড়তি খরচ হতে পারে। আবার যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেল আমদানি করাই কঠিন হয়ে পড়বে। সে ক্ষেত্রে আমাদের বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো চক্র যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। পুলিশের টহলের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানিতে যেন ঘাটতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এখন থেকেই পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রাখা উচিত, নাহলে টহল কার্যক্রম কমে যেতে পারে।’

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, ভাসমান অপরাধীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। জেলা ও মহানগর পুলিশের অনুসন্ধানে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ভাসমান অপরাধীর একটি তালিকা তৈরি হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল ও রংপুরে এদের সংখ্যা বেশি। রিকশাচালক, মিস্ত্রি, দোকান কর্মচারী, ভাঙারি ব্যবসায়ী, ফেরিওয়ালা ও হালকা যানবাহনের চালকবেশে এরা সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে যায়। সারা দেশে কতজন এমন অপরাধী আছে, সে বিষয়ে ছয় মাস আগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

জ্বালানি সংকটের কারণে পুলিশের টহল কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পুলিশের টহলের জন্য নিয়মিত জ্বালানি তেলের বরাদ্দ থাকে। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে চলা জ্বালানি সংকটের প্রভাব পুলিশের কাজে পড়েনি। পরবর্তী সময়ে সংকট দীর্ঘ হলে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন